মানুষ আশরাফুল মাখলুকাত। মানুষের সবকিছুই সম্মানিত ও মূল্যবান। সবচেয়ে মূল্যবান তার প্রাণ। একজন মানুষের প্রাণ নাশ করা বা তাকে হত্যা করা অত্যন্ত জঘন্য বিষয়।
ইসলামে মানুষ হত্যাকে গুরুতর পাপ হিসাবে সাব্যস্ত করা হয়েছে।একজন মানুষ হত্যা করা শুধু একটি প্রাণের নাশ নয়, বরং তার হত্যার সঙ্গে ঘটে যায় শত মানুষের বিনাশ। নিভে যায় একটি পরিবারের জীবন প্রদীপ। ভেঙে যায় হাজারও স্বপ্ন।
চুরমার হয়ে পড়ে বাবা-মার হৃদয়। চিরতরে এতিম হয়ে পড়ে ফুটফুটে শিশুগুলো আর বিধবা হয়ে যায় প্রিয়তমা স্ত্রী। এভাবে একটি পরিবার থেকে সমাজ, সমাজ থেকে রাষ্ট্র সবাই হয়ে পড়ে বেদনাবিধুর।
এজন্যই তো আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘যে কেউ প্রাণের বিনিময়ে প্রাণ অথবা পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি করা ছাড়া কাউকে হত্যা করে সে যেন সব মানুষকেই হত্যা করে। আর যে কারও জীবন রক্ষা করে সে যেন সবার জীবন রক্ষা করে।’ (সূরা মায়িদাহ : ৩২)।
এ হত্যাকাণ্ডের নিশানা যদি হয় কোনো মুসলমান, তাহলে পাপের গুরুভার আরও বেড়ে যায়। একজন মুসলমানকে হত্যা করা জঘন্য অপরাধ।
নবিজি (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘দুনিয়ার সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাওয়া আল্লাহতায়ালার কাছে একজন মুসলমানকে হত্যা করার চেয়ে সাধারণ।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১৩৯৫; নাসায়ী, হাদিস নং : ৩৯৮৬)।
সমাজ জীবনে নাশকতা, নৈরাজ্য, বিশৃঙ্খলা ও রক্তপাত দমনে ইসলাম অনুপম দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং সন্ত্রাসী দুর্বৃত্তদের প্রতিরোধে কঠোর শাস্তি আরোপ করেছে।
ইসলামের আলোকে রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রচলিত আইনে সন্ত্রাস সৃষ্টিকারীদের উপযুক্ত ন্যায়বিচার করা হলে আর কেউ নাশকতা, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে সাহস পাবে না। পবিত্র কুরআনে ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যাকাণ্ডকে মহা-অপরাধ সাব্যস্ত করে কঠোর শাস্তির বিধান ঘোষিত হয়েছে।
আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘কোনো মুমিনকে হত্যা করা কোনো মুমিনের কাজ নয়, তবে ভুলবশত করলে তা স্বতন্ত্র। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো মুমিনকে হত্যা করলে তার শাস্তি জাহান্নাম, সেখানে সে স্থায়ীভাবে থাকবে এবং আল্লাহ তার প্রতি রাগান্বিত হবেন, তাকে অভিসম্পাত করবেন এবং তার জন্য মহাশাস্তি প্রস্তুত রাখবেন।’ (সূরা নিসা, আয়াত : ৯২-৯৩)।
ইসলাম ইচ্ছাকৃতভাবে মানব সন্তানকে হত্যা করা কঠোর ভাষায় নিষিদ্ধ করেছে। নিরপরাধ জনগণকে গুলি করে, বোমা মেরে, পুড়িয়ে মারা বা প্রাণহানি ঘটানো ইসলামের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।
আরও পড়ুন:







