ক্ষমতা, পদমর্যাদা বা সুযোগ-সুবিধার জন্য নয় ১৪শ বছর আগে মহানবী (সা.)-এর দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)-এর লড়াই ছিল সত্য, ন্যায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার। মাত্র ৭১ জন সঙ্গী নিয়ে তিনি দাঁড়িয়েছিলেন অত্যাচারী ইয়াজিদের ৩০ হাজার সেনার বিরুদ্ধে। প্রতি বছর মহররম মাসে মুসলিমরা কারবালায় হুসাইন (আ.)-এর আদর্শের প্রতিই সম্মান জানান।
গাজাকে আজকের কারবালা বলাটা হয়তো অতিরঞ্জন হবে না। দুর্নীতিগ্রস্ত ও স্বৈরাচারী উমাইয়া শাসনের বিরুদ্ধে হুসাইন (আ.)-এর বিদ্রোহ কেবল অতীতের একটি অধ্যায় নয়, এটি বর্তমানের জন্যও একটি আয়না। গাজায় প্রতিটি দিনই আশুরা। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অধিকার ও শক্তির লড়াই সময় বা ভূগোলে আবদ্ধ নয়। গতকালই ছিল কারবালা। আজ গাজা।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার মানুষের উপর যে ভয়াবহতা নেমে এসেছে, তা কারবালার ময়দান থেকে একসময়ের নির্যাতিতদের আর্তনাদকে প্রতিধ্বনিত করে। সন্ত্রাস ও অত্যাচারের অনেক মুখ এবং অনেক পতাকা উড়ছে, কিন্তু তাদের প্রকৃতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আমাদের সময়ের ইয়াজিদকে চিনতে হবে এবং হুসাইন (আ.) আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছিলেন তাতে সাড়া দিতে হবে।
ইহুদি বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থা ৭৬ বছর ধরে ফিলিস্তিনি ভূমি দখল করে রেখেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ৫৬ হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। আমরা দেখেছি মায়েরা প্রাণহীন শিশুদের কোলে নিয়ে যাচ্ছেন, বাবারা তাদের প্রিয়জনদের লাশ খুঁজছেন ধ্বংসস্তূপে, হাসপাতাল ও স্কুলগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধে হোসেনি চেতনার প্রতিফলন, প্রয়োজনে মৃত্যু, তবু অসম্মান নয়।
আজ ফিলিস্তিনিরা দখলদারিত্ব ও অপমানের কাছে মাথা নত করতে অস্বীকার করে। এ কারণেই মহররম কেবল শোকের মাস নয় - এটি বিশ্বের প্রতিটি নির্যাতিত আত্মার সাথে সংহতির সঙ্গীত। ১৪শ বছর পর যেমন ইয়াজিদ কারবালার কান্না দমন করতে পারেনি, তেমনি আজকের ইয়াজিদরাও সত্যকে স্তব্ধ করতে পারবে না। হোসেন (আ.)-এর রক্ত এখনও কথা বলে।
কারবালা কেবল একটি স্থান নয়। এটি এমন প্রতিটি ভূমি যেখানে সত্যকে পদদলিত করা হয়। আশুরা কেবল একটি দিন নয়। এটি এমন প্রতিটি মুহূর্ত যখন কেউ অন্যায় ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়। তাই যতক্ষণ অত্যাচারী থাকবে, কারবালা থাকবে। আর যতক্ষণ হোসেন (আ.) থাকবে, ততক্ষণ প্রতিরোধ থাকবে। গাজাও থাকবে।
আরও পড়ুন:


.jpg)





