পটুয়াখালী-৩ আসনের সাবেক আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফারজানা আফরোজের ব্যক্তিগত সম্পর্ককে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে বইছে আলোচনার ঝড়।
চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও রনির দ্বিতীয় স্ত্রী ফারজানা আফরোজ সম্প্রতি যুক্ত হয়েছেন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপিতে। দলটির মিডিয়া উইং সূত্রে খবর, এনসিপির নারী শাখা জাতীয় নারী শক্তির কেন্দ্রীয় এক গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে চলেছেন তিনি।
রনির অস্বীকৃতি ও জিডির দাবি
তবে খবরটি প্রকাশ পেতেই শুরু হয় আসল জমজমাট এক নাটক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ফারজানাকে স্ত্রী হিসেবে একবাক্যে অস্বীকার করেন গোলাম মাওলা রনি। তার দাবি, ফারজানা তার স্ত্রী তো দূরের কথা, তিনি সাতকানিয়ার এক জামায়াত নেতার সাবেক স্ত্রী।
এই বিতর্ক যখন চরমে, তখন সামনে আসে আরও একপ্রস্থ নাটকীয় তথ্য। ফেসবুক পোস্টে জিডির কপি আর তালাকনামার ছবি দিয়ে রনি হাজির করেন তার নিজস্ব বয়ান। (২৯ জুন) নিউমার্কেট থানায় করা সেই জিডিতে রনি উল্লেখ করেন, কাজের প্রয়োজনে (৫ মে) তিনি চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসনে অবস্থান করছিলেন। রনির দাবি, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ফারজানা আফরোজ তার মা, ছেলেমেয়ে এবং একজন পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৯-১০ জনকে নিয়ে হঠাৎ রনির হোটেল কক্ষে প্রবেশ করেন।
সৌজন্য সাক্ষাৎ আর ছবি তোলার পর্ব তো দূরুস্থ, এর পরেই নাকি ঘটে যায় এক অদ্ভুত অলৌকিক কাণ্ড। রনির দাবি, একপর্যায়ে তিনি অসংলগ্ন অবস্থায় জ্ঞান ফিরে পান এবং দেখেন তাদের কলমা-কাবিন সম্পন্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ রনি অচেতন কিংবা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় নাকি তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়ে যায়। ব্যস কিংকর্তব্যবিমূঢ় রনি তখন সুকৌশলে হোটেল ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন বলে উল্লেখ করেন ওই জিডিতে।
ফারজানার অভিযোগ ও পাল্টা দাবি
এদিকে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনির একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের একাংশ তার ওই পোস্টের বিপরীতে পুরোনো কিছু অভিযোগ ও একটি কল রেকর্ড নতুন করে সামনে এনেছে।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক ইলিয়াস হোসেনের একটি পুরোনো ভিডিও বার্তায় গোলাম মাওলা রনি ও ফারজানা আফরোজের মধ্যকার একটি ফোনালাপের অডিও জনসমক্ষে আসে। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া ও বিতর্ক তৈরি হয়।
যেখানে দেখা যায়, আইনি দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল থাকা সত্ত্বেও স্বামী যোগাযোগ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ফারজানা। তবে স্বামীর সামাজিক মর্যাদা ও স্বার্থের কথা ভেবে পূর্বে পাঠানো তালাক নোটিশ রনি নিজেই প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে ফারজানা আফরোজের অভিযোগ রনির দাবির সম্পূর্ণ উল্টো। তার দাবি, রনি নিজেই বারবার তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। শুরুতে রাজি না হলেও ধর্মীয় নানা অজুহাত দেখিয়ে তাকে রাজি করান রনি। এরপর রাজধানীর এক পাঁচ তারকা হোটেলে হয় তাদের বিয়ে।
তবে বিয়ের পরই শুরু হয় রকমারি ঘটনা। ফারজানার দাবি, বিয়ের পর তাকে পারিবারিক ও সামাজিক স্বীকৃতি দেননি রনি। এমনকি একদিন অফিসে দেখা করতে গেলে পুলিশ ডেকে তাকে বের করে দেয়া হয়। সে সময় পুলিশকে রনি নাকি জানিয়েছিলেন তিনি সম্মোহিত বা হিপনোটাইজ হয়ে এই বিয়ে করেছিলেন।
এখানেই শেষ নয়, অভিযোগ রয়েছে রনি মূলত সম্পদের লোভে ফারজানাকে বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সম্পত্তি না পাওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট হতেই তিনি ডিভোর্স পাঠিয়ে দেন।
হোটেল কক্ষের রহস্যময় বিয়ে, হিপনোটাইজ হওয়ার দাবি, গোপন কল রেকর্ড আর ফারজানার এনসিপিতে যোগ দেয়া সব মিলিয়ে সাবেক এই আ.লীগ এমপি ও ফারজানা আফরোজের সম্পর্কের সমীকরণ এখন দেশজুড়ে মুখরোচক আলোচনার বস্তু। রাজনীতির আবহে ব্যক্তিগত এই নাটক কোন মোড়ে গিয়ে থামে সেটিই এখন দেখার বিষয়।
আরও পড়ুন:







