শুক্রবার

৬ নভেম্বর, ২০২৬ ২২ কার্তিক, ১৪৩৩

যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই শিবিরের প্রকাশনা উৎসব

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৫

শেয়ার

যে বটতলায় কোরআন তিলাওয়াতে শোকজ হতো, সেখানেই শিবিরের প্রকাশনা উৎসব
ছবি সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। একসময় এই বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ করা হতো, মসজিদের ইমাম-কারির চাকরি চলে যেত কিংবা রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান করলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হতো বলে দাবি করেছেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাহিত্য ও প্রকাশনা সম্পাদক এসএম ফরহাদ। তাঁর মতে, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার এই পরিবেশ ফিরে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

ইসলামী সংস্কৃতি চর্চায় বাধার অভিযোগ

এসএম ফরহাদ বলেন, এই বটতলায় কোরআন তিলাওয়াত করলে শোকজ নোটিশ দেওয়া হতো। ভিসি অফিস মসজিদে তারাবির নামাজের কারি সাহেবের চাকরি চলে যেত। রমজানকে স্বাগত জানিয়ে অনুষ্ঠান কিংবা ইসলামী সংস্কৃতি তুলে ধরলে শিক্ষার্থীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হতো। অথচ আজ সেই বটতলাতেই ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। উৎসবে ইসলামের ইতিহাস, মুসলিম ঐতিহ্য এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধ ইতিহাস প্রামাণ্যভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শহীদদের রক্ত ও আহতদের ত্যাগের বিনিময়ে এখন এখানে ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা করতে গিয়ে কাউকে শোকজের মুখোমুখি হতে হয় না। কোনো হাফেজকে কোরআন তিলাওয়াতের কারণে চাকরি হারানোর ভয় পেতে হয় না। কোনো শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কারের নোটিশের আতঙ্কে থাকতে হয় না।

প্রকাশনা রাখলেই নির্যাতনের অভিযোগ

বিগত দেড় দশকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন ও মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে ফরহাদ বলেন, গত ১৫ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলে শিবিরের কোনো প্রকাশনা পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করে বের করে দেওয়া হতো। কারও কাছে ডায়েরি বা ক্যালেন্ডার পাওয়া গেলে তাঁকে জঙ্গি আখ্যা দিয়ে মামলা দেওয়া হতো।

তিনি অভিযোগ করেন, মেস থেকে শিক্ষার্থীদের চোখ বেঁধে ধরে নিয়ে গিয়ে ক্রসফায়ারে হত্যা করে বলা হতো, তাঁদের হাতে অস্ত্র ছিল এবং তাঁরা পুলিশের ওপর গুলি চালিয়েছেন। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার উপাদান হিসেবে শিবিরের ডায়েরি, ক্যালেন্ডার ও ম্যাগাজিন সাজিয়ে রাখা হতো বলে দাবি করেন তিনি।

আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থানের কথা তুলে ধরেন ফরহাদ

এসএম ফরহাদ বলেন, আজ ঐতিহাসিক বটতলায় দাঁড়িয়ে তাঁদের প্রকাশনাগুলো সবার সামনে তুলে ধরা হয়েছে। দেশবাসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, সাংবাদিক ও নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের সেগুলো নিজেরা পর্যবেক্ষণ ও বিচার করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, তাঁদের প্রকাশনায় মূলত ইসলামের কথা বলা হয়েছে এবং আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। তাঁরা তরুণ প্রজন্মকে আদর্শ ও আত্মমর্যাদাশীল হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছেন। আধিপত্যবাদের মোকাবিলায় প্রস্তুত করার এই চিন্তাকেই তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী ভয় পেত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সবশেষে ফরহাদ বলেন, শত জুলুম ও ষড়যন্ত্রের মধ্যেও কোনো বছর ছাত্রশিবিরের প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ থাকেনি। ইনসাফপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা, সমাজের কাঠামোগত সংস্কার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী চেতনা জাগ্রত রাখার এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।