ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি)শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেছেন, "এই ক্যাম্পাসে আর কখনো যেন হানাহানি, মারামারির রাজনীতি ফিরতে না পারে, সে জন্য আপনাদের উদ্যোগী হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ছাত্র সংসদ নির্বাচন যেন হয়, সে জন্য গণ আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।"
শনিবার রাত ১১টায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চের পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সাদিক কায়েম বলেন, "ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যারা শিক্ষার্থী আছেন, আপনাদের কাছে জানতে চাই, এখানে কি ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয়েছে? না। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন হবে এবং ছাত্ররা ছাত্র সংসদকে কেন্দ্র করে নেতৃত্ব পাবে।"
তিনি আরও বলেন, "সেই আলোকে ডাকসু দিয়ে শুরু হয়েছিল, যবিপ্রবি পর্যন্ত হয়েছে। পরবর্তীতে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছিল। সেগুলো হলো শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়।"
ওই দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের জন্য বিএনপি সরকার ও দলটির নেতাকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের সামনে বাধা সৃষ্টি করে নির্বাচন বন্ধ করে দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সাদেক কায়েম বলেন, "বিএনপি সরকার হলো গণতন্ত্রহীনতার ইতিহাস। তারা মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, যখন ক্ষমতায় যায়, তখন গণতন্ত্রকে গলা টিপে হত্যা করে।"
ডাকসুসহ বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, "ডাকসুতে এবং সকল ছাত্র সংসদ নির্বাচনে আমরা ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল যে পরিমাণ ভোট পেয়েছি, অন্য কোনো ছাত্র সংসদ নির্বাচনে এত ভোট আর কেউ পায়নি। আমরা নির্বাচিত হওয়ার পরে প্রমাণ করেছি কীভাবে কথা ও কাজের মধ্যে মিল রাখতে হয়, কীভাবে শিক্ষার্থীদের অধিকার নিশ্চিত করতে হয়। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসকে কীভাবে ভায়োলেন্স ফ্রি, মারামারি-হানাহানিমুক্ত ক্যাম্পাস হিসেবে গড়ে তুলতে হয়, সেটা আমরা করে দেখিয়েছি।"
এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের জিএস এস এম ফরহাদ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (চাকসু) সহ-সভাপতি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ঢাকা ৪-এর এমপি সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, চুয়াডাঙ্গা ১ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি আবু মুসা, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী, সাধারণ সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাফিসহ বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







