জনগণের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়ন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও লুটপাটের বিচার এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের হত্যার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেছেন, জনগণের দাবি আদায়ে একের পর এক কর্মসূচি দেয়া হবে। প্রয়োজনে খুলনা থেকে ঢাকা অভিমুখে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তখন গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘর থেকে মানুষকে ঢাকায় হাজির হওয়ার আহ্বান জানানো হবে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঢাকা থেকে শুরু হওয়া ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের অংশ হিসেবে খুলনায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সাড়ে ১৫ বছরে এবং বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদের রক্তের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং দেশের মানুষের মুক্তির জন্যই তাঁদের এই আন্দোলন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
দেশের নির্বাচনব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার পর জনগণের মতামত ও প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ পরিচালনা করা হয়েছে। এখন ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার অপচেষ্টা চলছে।
নারী ও কৃষকদের জন্য বিতরণ করা বিভিন্ন কার্ডের সুবিধা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, প্রকৃত উপকারভোগীরা এসব কার্ডের সুফল পাননি। বরং সাধারণ মানুষকে সামান্য অর্থ সহায়তা দিয়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘কার্ডের টাকা চুরি হয়ে কি লন্ডনে নাকি শ্রীলঙ্কায় চলে গেছে? কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে এক বা দুই হাজার টাকা দিয়ে মাস শেষে গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলের নামে পাঁচ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। অথচ মানুষ ঠিকমতো গ্যাস বা বিদ্যুৎ পায়নি। সুস্পষ্টভাবে দেশের মানুষের পকেট কেটে ডাকাতি করা হচ্ছে।’
কৃষকদের সারসংকটের জন্য ডিলার নিয়োগে অনিয়ম ও ঘুষ বাণিজ্যকে দায়ী করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কৃষকরা প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। তাঁর অভিযোগ, ২৫-৩০ লাখ টাকা থেকে শুরু করে এক কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এভাবে কৃষি খাতেও লুটপাটের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে। এসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে তাঁরা আন্দোলনে নেমেছেন।
আন্দোলনের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার, বিশেষ করে জুলাইয়ের শহীদদের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি বন্ধ, জনগণের সম্পদ লুটপাট এবং বিদেশে অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। দেশের মানুষকে অন্যায়, শোষণ ও দুর্নীতির হাত থেকে মুক্ত করাই তাঁদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের এই দাবি কোনো একক দল বা জোটের নয়; বরং এ দেশের প্রতিটি মানুষের বাঁচার দাবি। আমরা শুধু ১১ দলের বিজয় চাই না, আমরা এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের বিজয় ও মুক্তি চাই। শোষণমুক্ত, বৈষম্যহীন, সাম্যের ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।’
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন খুলনা মহানগর জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক ও খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল। এ সময় ১১ দলীয় জোটের অন্যান্য নেতাকর্মী ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







