গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার জনগণের কাঁধে স্বৈরাচার চাপিয়ে দিতে চায়। জনগণের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
শনিবার সকাল ১০টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।
অধিকার আদায়ে আন্দোলনের ঘোষণা
পথসভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক বলেন, দেশের মানুষের অধিকার আদায়ে তারা আন্দোলনে নেমেছেন। জনগণের অধিকার হরণ করা হলে এক দফার আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে। এমন ডাক এলে ঢাকার রাজপথে আসার জন্য জনগণকে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে জনগণকে লালকার্ড দেখিয়েছে। জনগণও সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাতে লালকার্ড দেখাবে।
গণভোট নিয়ে সরকারের সমালোচনা
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন বলেন, বর্তমান সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জনগণ গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হ্যাঁ ভোট চেয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকারের অবস্থান পাল্টে গেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মাওলানা জালালুদ্দিন আরও বলেন, ক্ষমতার দম্ভে সরকার গণভোটকে অবৈধ বলছে। গণভোট অবৈধ হলে সরকার ও সংসদও অবৈধ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শরীয়তপুর জেলা জামায়াতের আমীর আব্দুর রব হাশেমীর সভাপতিত্বে পথসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিনসহ ১১ দলীয় ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
খুলনা হয়ে কুষ্টিয়ায় শেষ হবে লংমার্চ
নাওডোবার পথসভা শেষে লংমার্চের বহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা করে। পথে বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে পথসভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর, ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বর, যশোরের মুড়লীর মোড় এবং ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী সমাবেশ হবে।
লংমার্চের পথে বিভিন্ন স্থানে গণজমায়েতেও বক্তব্য দেবেন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা। এ সময় সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে স্থানীয় নেতাকর্মীরা লংমার্চের বহরকে অভ্যর্থনা জানাবেন।
এর আগে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের দাবিতে শনিবার সকাল ৭টায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, দাবি আদায়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম অভিমুখে প্রথম লংমার্চ করে ১১ দল। দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হয় ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে।
আরও পড়ুন:







