বুধবার

২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

২৮ অক্টোবরের মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে: শিবির সভাপতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৯

শেয়ার

২৮ অক্টোবরের মামলা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে: শিবির সভাপতি
ছবি: সংগৃহীত

২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঘটনায় দায়ের করা যেসব মামলা তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার গায়েব করে দিয়েছিল, সেগুলো দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করে বিচার ত্বরান্বিত করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম।

বুধবার বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে “২৮ অক্টোবর ২০০৬: আওয়ামী নৃশংসতা ও ফ্যাসিবাদের উত্থান” শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “২৮ অক্টোবরের রক্তদানের মধ্য দিয়ে আমাদের প্রিয় শহীদরা যে পথে এ দেশকে নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন, আওয়ামী লীগ সেই পথ তৈরি হতে দেয়নি; বরং ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটিয়েছিল। আমরা ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সেই ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করে আবার নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখতে চাই। কেউ চেষ্টা করেও আমাদের এই পথ থেকে সরাতে পারবে না। বাংলার ১৮ কোটি মানুষ সংগ্রাম করে ইনসাফপূর্ণ রাষ্ট্রের পথে বাংলাদেশকে আবার এগিয়ে নেবে। এটাই আমরা মনে করি ২৮ অক্টোবরের বিজয়ের তাৎপর্য।”

২৮ অক্টোবরের স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, “সেদিন আওয়ামী লীগসহ ১৪-দলীয় জোটের সন্ত্রাসীরা বন্দুক, লগি-বৈঠা নিয়ে মুহুর্মুহু হামলা চালাচ্ছিল। ছাত্রশিবিরের জনশক্তিরা পল্টন মোড়ে মানবঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে সেই আক্রমণ প্রতিহত করেন এবং নেতাদের নিরাপদ রাখেন। তারা শহীদ হয়েছেন, তবু দায়িত্বশীলদের গায়ে আঁচড় লাগতে দেননি। পল্টন ট্র্যাজেডির দিনে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রমাণ করেছে, যারা আল্লাহর দ্বীনকে বিজয়ী করে তার সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে জীবন বাজি রাখে, তারা বাতিলের কোনো আঘাতের সামনে মাথা নত করে না।”

ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, “২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর ভারতীয় আধিপত্যবাদী শক্তি ও আওয়ামী-বাম সন্ত্রাসীদের লগি-বৈঠার হামলা, মানুষ হত্যা এবং লাশের ওপর নৃত্যের মধ্য দিয়ে পৃথিবীর ইতিহাসে বর্বরোচিত ঘটনার নজির স্থাপন করে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়। এরপর একে একে পিলখানা, শাপলা চত্বর ও ২০২৪ সালের গণহত্যাসহ বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম-খুন ও আয়নাঘরের মতো ঘটনার মধ্য দিয়ে ১৬ বছর বাংলার জমিনে হাসিনার ফ্যাসিবাদ জারি ছিল। হাসিনার ফ্যাসিবাদকে শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে এ দেশের বামপন্থীরা সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে।”

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ২৮ অক্টোবরের শহীদ হাফেজ গোলাম কিবরিয়া শিপনের বাবা তাজুল ইসলাম।

ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি সাইফুল ইসলাম সাইম, মহানগর পূর্ব সভাপতি ইমদাদুল হক ও মহানগর দক্ষিণ সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেনের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ এবং কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ।

এছাড়া ২৮ অক্টোবরের শহীদ পরিবারের সদস্যসহ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ও মহানগরের নেতারা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন।