মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিস্টদের ক্লাব: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:৫৮

শেয়ার

আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল নয়, ফ্যাসিস্টদের ক্লাব: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, এটি ফ্যাসিস্টদের ক্লাব। তারা যখনই বিভিন্ন কায়দায় সন্ত্রাস করে ক্ষমতায় গিয়েছে, তখনই বেপরোয়া হত্যা ও সন্ত্রাস চালিয়ে গদি পাকাপোক্ত করতে চেয়েছে। আওয়ামী লীগ ৭২ সালের ১০ জানুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণ করে ৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পর্যন্ত এ জাতির ওপর সমানতালে সন্ত্রাস, লুটপাট, তাণ্ডব, চাঁদাবাজি ও মা-বোনের ইজ্জত নষ্ট করার ঘটনা ঘটিয়েছে। স্বাধীন দেশে ১০ হাজার মুক্তিযোদ্ধাকে তারা খুন করেছে। ৩৫ থেকে ৩৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হলেও তাদের কাউকে বিচারের মুখোমুখি কিংবা আদালতে তোলা হয়নি। রক্ষী বাহিনী দিয়ে তাদের নির্মমভাবে খুন করা হয়েছিল। তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে বাকশাল ও নিজেদের রক্ষায় রক্ষী বাহিনী গঠন করেছিল।’

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর আইডিইবি ভবনের মাল্টিপারপাস হলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনে আওয়ামী লীগের লগি-বৈঠার তাণ্ডবে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জামায়াত আমীর।

জামায়াত আমির বলেন, ‘শেখ হাসিনা জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়ে ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসেন। কিন্তু তার রক্তের নেশা কাটেনি। তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘আমার দলের একটি লাশ পড়লে ১০টি লাশ ফেলতে হবে।’ শাসক হয়ে জনগণকে খুন করার সরাসরি নির্দেশ দেয়ার ধৃষ্টতা ফ্যাসিবাদী ঐতিহ্যের কারণেই তিনি দেখিয়েছিলেন।’

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘২০০১ সালে জনগণের বিপুল সমর্থনে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় আসে। তবে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর আওয়ামী লীগ রাজপথে লগি-বৈঠা নিয়ে তাণ্ডব চালায়। মানুষ পিটিয়ে হত্যা করার জন্য লগি-বৈঠা আনার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আমাদের সহকর্মীদের হত্যা করে লাশের ওপর তাণ্ডব চালানো হয়েছে, এমনকি লাশ চুরি করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্যাসিবাদের মুখে পড়েছিল।’