মঙ্গলবার

২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১২ কার্তিক, ১৪৩৩

আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যের প্রতিবাদ, ক্ষমা চাওয়ার দাবি জামায়াত-শিবিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১০

শেয়ার

আইজিপির ক্রসফায়ার মন্তব্যের প্রতিবাদ, ক্ষমা চাওয়ার দাবি জামায়াত-শিবিরের
ছবি সংগৃহীত

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির। বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ছাত্রশিবির। সংগঠন দুটির নেতারা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থি।

সোমবার (২৭ অক্টোবর) পৃথক বিবৃতিতে সংগঠন দুটি এ প্রতিবাদ ও দাবি জানায়।

আইজিপির বক্তব্যের প্রতিবাদ জামায়াতের

আইজিপির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের দায়িত্ব। পুলিশ নাগরিকের সেবক, শাসক নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধান হিসেবে আইজিপির দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিবৃতিতে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা এবং বাকস্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল। বিনা বিচারে মানুষ হত্যা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে নাগরিকদের তুলে নিয়ে হত্যা, ক্রসফায়ার ও গুমের ঘটনা ঘটেছে।

আইজিপি আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যে একই ধরনের কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তির হুমকি ও ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর মতে, এ বক্তব্য সংবিধান ও আইনের শাসনের পরিপন্থি। এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

জামায়াতের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দেশে বিএনপির সন্ত্রাসীদের দমন, চাঁদাবাজি বন্ধ এবং মাদক নির্মূলে ব্যর্থতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চরম অদক্ষতার পরিচয়। নাগরিকদের জীবনযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও নিরাপদ করতে বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

বক্তব্য প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত ক্ষমা চায় শিবির

সরকারের অনুমতি পেলে প্রয়োজনে পুলিশ ক্রসফায়ার করবে বলে আইজিপির দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহার করে জাতির কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির।

সোমবার সংগঠনটির সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক বিবৃতিতে এ দাবি জানান।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, ক্রসফায়ারের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রকাশ্য ঘোষণা সংবিধান, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ওপর চরম আঘাত। অপরাধ দমনের দায়িত্বে থাকা বাহিনীর প্রধান যখন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সম্ভাব্য পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেন, তখন তা নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

শিবির নেতারা আরও বলেন, সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদ প্রত্যেক নাগরিকের আইনি সুরক্ষা, জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেয়। এসব অধিকার উপেক্ষা করে কারও জীবন কেড়ে নেওয়ার অধিকার পুলিশের নেই।

বিবৃতিতে তাঁরা অভিযোগ করেন, আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের পক্ষ থেকে যে বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, তাতেও তাঁর বক্তব্যকে ন্যায্যতা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। বিষয়টিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তাঁরা বলেন, এ ধরনের মনোভাব ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ।

শিবির নেতাদের ভাষ্য, কে অপরাধী এবং তাঁর কী শাস্তি হবে, তা নির্ধারণের এখতিয়ার আদালতের। পুলিশের দায়িত্ব অপরাধ তদন্ত করা এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করা।

চকবাজারে অনুষ্ঠানে ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য আইজিপির

এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের চকবাজার ইসলামিক ব্যাংকিং শাখার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, যেখানে ক্রসফায়ার প্রয়োজন হয়, সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ সেটিই করবে।

আইজিপির ক্রসফায়ার সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ব্যাখ্যা দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আইজিপি তাঁর বক্তব্যে মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে পুলিশের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি ক্রসফায়ার শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন।