সোমবার

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

ধানমন্ডিতে জয় বাংলা স্লোগান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৪

শেয়ার

ধানমন্ডিতে জয় বাংলা স্লোগান, ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা আটক
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর ধানমন্ডিতে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীদের মানববন্ধন কর্মসূচির আগে ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা দীপক শীলকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে মীনা বাজারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় মানববন্ধনে বাধা দেওয়া এবং জয় বাংলা স্লোগান দিতে নিষেধ করার অভিযোগে পুলিশের সঙ্গে সংস্কৃতিকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী জয় বাংলা স্লোগান দেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে বাউল গানসহ সাংস্কৃতিক আয়োজনে হামলা ও বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে প্রতিবাদী শিল্পী জনতার ব্যানারে সোমবার বিকেল ৪টায় মীনা বাজারের সামনে মানববন্ধন আয়োজনের কথা ছিল। কর্মসূচি ঘিরে বিকেল থেকেই সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়।

অভিনেত্রী সুমনা সোমা বলেন, দেশজুড়ে বাউলদের ওপর হামলা এবং সাংস্কৃতিক আয়োজনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে তারা সেখানে গিয়েছিলেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া যাবে না বলে জানান।

সুমনা সোমার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের এক সদস্য জয় বাংলা স্লোগান নষ্ট হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন। এর প্রতিবাদ করলে দীপক শীলসহ তাঁদের কয়েকজনকে টেনেহিঁচড়ে পুলিশের গাড়ির দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে দীপক শীলকে পুলিশ ভ্যানে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

দীপককে আটকের পর স্লোগান, বাধা দেওয়ার অভিযোগ

দীপক শীলকে নিয়ে যাওয়ার পর ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েই জয় বাংলা স্লোগান দেন সুমনা সোমা। এ সময় কয়েকজন যুবক তাঁকে বাধা দিয়ে সেখানে এ স্লোগান দেওয়া যাবে না বলে জানান। পরে নাট্যকর্মী এহসানুল আজিজ বাবু, শামীমা শওকত লাভলীসহ কয়েকজন সংস্কৃতিকর্মী প্রতিবাদ করলে ওই যুবকেরা পিছু হটেন।

বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতিতে হামলার প্রতিবাদ

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীরা পরে সেখানেই দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেন। সংস্কৃতিকর্মী ফারুক এইচ খান বলেন, বাউল সংগীতের অনুষ্ঠান বন্ধ, শিল্পী-জনতার কর্মসূচিতে বাধা এবং মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়।

সারা দেশে বাউল ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে অভিযোগ করে তিনি এসব ঘটনার প্রতিবাদ জানান। এ ধরনের ঘটনার পেছনে স্বাধীনতাবিরোধী ও জঙ্গি মৌলবাদী গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ প্রতিহত করতে ১৯৭১ সালের মতো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান ফারুক এইচ খান।

অভিনয়শিল্পী ও নির্দেশক শামীমা শওকত লাভলী বলেন, দেশজুড়ে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধের প্রতিবাদ জানাতে তাঁরা সেখানে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশের বাধার কারণে মানববন্ধন করা সম্ভব হয়নি।

লাভলী বলেন, অনেক বাউল ও সংস্কৃতিকর্মী কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসেও পারেননি। সাধারণ মানুষ এবং তাঁদের সঙ্গে সংহতি জানাতে আসা বাউলরা ভয়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। ফলে কর্মসূচি শুরুর আগেই তা পণ্ড হয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে বা রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে সেখানে যাননি। জয় বাংলা স্লোগান দেওয়া যাবে না, এমন বাংলাদেশ তাঁরা চাননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তবে ঘটনাস্থলে থাকা মিজান নামের এক পুলিশ সদস্য বলেন, মানববন্ধনে কাউকে বাধা দেওয়া হয়নি। একজন উগ্র আচরণ করায় তাঁকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।