সোমবার

২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১১ কার্তিক, ১৪৩৩

মাদরাসাকে যারা অবজ্ঞা করবেন, দুনিয়াতেও তারা অসম্মানিত হবেন: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৮

আপডেট: ২৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:০৯

শেয়ার

মাদরাসাকে যারা অবজ্ঞা করবেন, দুনিয়াতেও তারা অসম্মানিত হবেন: জামায়াত আমির
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মাদ্রাসা নিয়ে হাজার অবহেলা, অবজ্ঞা ও ষড়যন্ত্র চলছে। সরকারি আলিয়া মাদ্রাসাগুলো এখন ভূতুড়ে মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। এমপিওভুক্ত যেসব মাদ্রাসা আছে, সেগুলোর অবস্থাও ভালো না। সিলেবাসকে সংকুচিত করা হয়েছে। এখন আবার কায়দা করে মাদ্রাসাকে স্কুল বানানোর উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তানযীমুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ১৪তম হিফজুল কোরআন অ্যাওয়ার্ড ও কোরআন উৎসব ২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মাদ্রাসা নিয়ে এ ধরনের ষড়যন্ত্র যারা করছে, তারা কি আমাজনের জঙ্গল থেকে এসে করছে? না, এই দেশের মানুষেরাই, সন্তানেরাই করছে। তারা যখন মাদ্রাসার অঙ্গনে কোনো অনুষ্ঠানে যান, মনে হয় যেন তারাই সর্বোত্তম মুমিন মুসলমান। আবার মাদ্রাসার ব্যাপারে যখন পলিসি নির্ধারণ করেন, তখন এটার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।

জামায়াত আমির বলেন, মাদ্রাসাকে নিয়ে যারা অবহেলা-অবজ্ঞা করবেন কিংবা এর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবেন, আমি নিশ্চিত, আখেরাতের পাল্লা আল্লাহ তাআলার হাতে। দুনিয়ায়ও আল্লাহ তাআলা তাদের সম্মানের জায়গায় রাখবেন না। কারণ, তারা এই সমাজটা সুন্দর হোক, এটা চান না। তারা চান, শিক্ষিত হয়ে কিছু লুটেরা তৈরি হবে, তাদের মতো দেশটাকে লুটেপুটে খাবে। চুরি করবে, চাঁদাবাজি করবে, দখলবাণিজ্য করবে, দেশকে অন্য জায়গায় বিক্রি করে বন্ধক রেখে দেশের টাকা বিদেশে পাচার করবে। তাদের আত্মীয়, সন্তান-সন্ততি সব বিদেশে পাঠিয়ে দেবে। তারা শুধু দেশের প্রেমে মশগুল হয়ে এখানে পড়ে থাকবেন। কার্যত দেশটাকে তারা তাদের রুজি-রোজগারের একটা কৃষিক্ষেত্র বলে মনে করেন। আর এ দেশের মানুষকে তারা মনে করেন তাদের প্রজা।

সমাজের এই ধারণা বদলানোর জন্যই কোরআনের শাসন যেমন প্রয়োজন, কোরআনের চর্চাও তেমন প্রয়োজন। এজন্য কোরআনের এই শিক্ষাকে যত বেশি বিকশিত করা হবে, সমাজ তত বেশি উপকৃত হবে।

মাদ্রাসাশিক্ষা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এখন সিভিল প্রশাসন, পুলিশ, স্বাস্থ্যসেবা, কূটনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুক্ত হয়ে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকছেন। মেধাবী এই শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও ভালো করবেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদ্রাসায় নৈতিক ও আখলাকি শিক্ষা দেয়া হয় বলে তারা মেধাবী হওয়ার পাশাপাশি সৎ মানুষ হিসেবেও গড়ে ওঠেন।

মেধা ও চরিত্র উপেক্ষিত হলে সমাজ জঙ্গলে পরিণত হয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আজ এমন সংকটেই ভুগছে। তাই মাদ্রাসাশিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষায়ও নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে দেশপ্রেমিক নাগরিক তৈরির পরিকল্পনা নেয়ার দাবি জানান তিনি।