‘ভালো লোকের নির্বাচনে দাঁড়ানোরই সুযোগ নেই’— জাতীয় সংসদের স্পিকারের এমন বক্তব্যের সঙ্গে সহমত প্রকাশ করেছেন ডা. তাসনিম জারা। তবে শুধু আক্ষেপ না করে স্পিকার তার পদমর্যাদা ব্যবহার করে সংসদ সদস্যদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে অভিমত দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এই প্রস্তাব ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে তাসনিম জারা লেখেন, স্পিকারের বক্তব্যের সঙ্গে তিনি একমত। দলগুলো ভালো বা যোগ্য মানুষ দেখে মনোনয়ন দেয় না, আর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে গেলে নানা পদক্ষেপে হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে তিনি মনে করিয়ে দেন, আক্ষেপ করার জন্য সাধারণ মানুষ রয়েছে; স্পিকারের উচিত তার জায়গা থেকে কার্যকর পরিবর্তন আনা।
সংসদ সদস্যদের আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয় তুলে ধরে তিনি লেখেন, বর্তমান সংসদের প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্য ব্যবসায়ী এবং প্রায় ৮০ শতাংশ কোটিপতি। ব্যবসা করা বা কোটিপতি হওয়া অপরাধ না হলেও সেই আয়ের উৎস বৈধ কি না, তা জনগণের জানা প্রয়োজন। অনেক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দামি গাড়ি, ঘড়ি বা নতুন ফ্ল্যাট ব্যবহার শুরু করেন এবং জানতে চাইলে সেগুলোকে ‘উপহার’ বলে দাবি করেন। কার কাছ থেকে কিসের বিনিময়ে এসব উপহার আসছে, তা স্পষ্ট না হলে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয় এবং ব্যবসায়ীদের বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
এই অনিয়ম রোধে যুক্তরাজ্যের আদলে একটি প্রকাশ্য ‘রেজিস্টার’ তৈরির প্রস্তাব দেন তাসনিম জারা। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে কয়েক সপ্তাহ পর পর এমপিদের সম্পদের বিবরণ, উপহার ও বিদেশ সফরের তথ্য আপডেট করে অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। তথ্যে গরমিল থাকলে সেখানে কঠোর শাস্তির নজিরও রয়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে কেবল পাঁচ বছরে একবার নির্বাচনের আগে হলফনামা দেওয়া হয়, যার সঠিক যাচাই-বাছাইও হয় না। নিয়মিত হালনাগাদ হওয়া এমন রেজিস্টার চালু হলে পুরোপুরি দুর্নীতি না থামলেও এমপিদের ‘উপহার’ বলে পার পাওয়ার সুযোগ কমবে এবং মিথ্যা প্রমাণ করা সহজ হবে।
আরও পড়ুন:







