বুধবার

২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৬ কার্তিক, ১৪৩৩

ইশরাকের অভিজ্ঞতা কম, পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন: নিলোফার মনি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:০৬

শেয়ার

ইশরাকের অভিজ্ঞতা কম, পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন: নিলোফার মনি
ছবি সংগৃহীত

সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের বয়স ও রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা কম বলে মন্তব্য করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপির সহসম্পাদক নিলোফার চৌধুরী মনি। তাঁর দাবি, বাবা সাদেক হোসেন খোকার পরিচয়ে পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে এসেছেন ইশরাক। গেন্ডারিয়া এলাকায় অস্ত্র হাতে তাঁর মাদকবিরোধী অভিযানকেও অভিজ্ঞতাহীন ও খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টক শোতে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন নিলোফার চৌধুরী মনি।

গেন্ডারিয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে মনি বলেন, ইশরাকের নিরাপত্তার স্বার্থে লাইসেন্সকৃত অস্ত্র সঙ্গে রাখা আইনত ঠিক হলেও একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর জন্য প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে এ ধরনের অভিযান চালানো সমীচীন হয়নি। সাধারণ মানুষকে ভীত-সন্ত্রস্ত করা কোনো মন্ত্রীর কাজ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইশরাকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার ঘাটতির কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মনি বলেন, বাবার পরিচয়ে পোষ্য কোটায় রাজনীতিতে আসার কারণে তাঁর অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট।

ইশরাক কোনো কুচক্রী মহল বা বুদ্ধিদাতাদের উসকানিতে পড়ে এ ধরনের চলচ্চিত্রের দৃশ্যের মতো পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মনি। তাঁর মতে, মাদকসেবীদের পেছনে এভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে সময় নষ্ট না করে মাদকের মূল মাফিয়া ও সরবরাহকারী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত ছিল।

সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর পদত্যাগের ঘটনাকে ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন নিলোফার চৌধুরী মনি। তাঁর মতে, বিএনপির পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

ঢাকার রাজনীতি ও আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে মনি বলেন, সাদেক হোসেন খোকার ছেলে হিসেবে ইশরাক ঢাকা শহরের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল সিটি করপোরেশন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহানুভূতিমূলক অবস্থানকে মাছের মায়ের পুত্রশোক বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মনি দাবি করেন, বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে দেওয়া এবং আগামী নির্বাচনে সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশ্যে ইশরাককে উসকানি দিয়ে এ পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করানো হয়ে থাকতে পারে।

দেশের মাদক পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সংরক্ষিত আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, মাদক এখন বাংলাদেশের এক নম্বর সমস্যা। তৃণমূল থেকে শুরু করে সর্বত্র মাদকের জাল ছড়িয়ে পড়েছে। তবে প্রশাসনের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা ও আমলাদের নেপথ্য সহযোগিতার কারণে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না।