মুফতি ফয়জুল করীম। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী রাজনৈতিক দল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির এবং চরমোনাই দরবারের শায়খ তিনি। সুন্নি-হানাফি ও দেওবন্দি ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এই নেতা দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।
তবে ধর্মীয় রাজনীতির কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকা এই নেতাই এখন আলোচনার পাশাপাশি বিতর্কেরও কেন্দ্রে। সম্প্রতি হিন্দুদের দুর্গাপূজায় সহযোগিতার আহ্বানের বক্তব্য ঘিরে ধর্মীয় অঙ্গনে তাকে নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
সহযোগিতার আহ্বান ও নিরাপত্তার বার্তা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, শায়খে চরমোনাই মুফতি ফয়জুল করীম তাঁর অনুসারীদের উদ্দেশে হিন্দুদের পূজায় সহযোগিতার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে তাঁদের ধর্মীয় উপাসনালয়গুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুসলমানদের সজাগ থাকার বার্তাও দেন ফয়জুল করীম।
মূর্তিপূজা নিয়ে আলেমদের প্রশ্ন
যে মূর্তিপূজাকে ইসলাম সরাসরি হারাম ঘোষণা করেছে, সেই মূর্তিপূজাতেই প্রত্যক্ষ সহযোগিতার কথা বলায়, সমালোচনা শুরু হয় শায়খে চরমোনাইয়ের বক্তব্য ঘিরে। এমনকি, তাঁর এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশের অনেক আলেম-উলামা। তাঁদের মতে, ইসলাম ও মূর্তিপূজাকে একইসঙ্গে উপস্থাপন করার কোনো সুযোগ নেই।
অন্যদিকে, দেশের সুপরিচিত ইসলামী স্কলার ও চিন্তাবিদ শায়েখ আহমাদুল্লাহর বক্তব্যেও উঠে এসেছে মূর্তিপূজাকে সমর্থন করে, এমন কোনো কাজ না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা।
পূর্বের সমালোচনা ও বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন
এখানেই শেষ নয়। দেশের এই কেন্দ্রীয় ইসলামী রাজনীতিবিদ এর আগেও হিন্দুদের মন্দিরে অনুদান দেয়ার ঘোষণা দিয়ে সমালোচিত হন। এমনকি মুফতি ফয়জুল করীমের এসব কাজকে অনেকেই ইসলামবিরোধী বলেও মন্তব্য করেছে।
যেখানে, নূহ আলাইহিস সালাম থেকে ইব্রাহিম আলাইহিস সালাম হয়ে, মুসলিমদের সর্বশেষ নবী রাসূল হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত সবারই, অন্যতম দায়িত্বই ছিল শিরক ও মূর্তিপূজার বিনির্মূল করা। সেখানে মূর্তিপূজার সমর্থনে যায়—এমন বক্তব্য ইসলামী রাজনীতির দায়িত্বশীল অবস্থান থেকে কতটা গ্রহণযোগ্য, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন তুলেছে ইসলামী বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:







