সোমবার

১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ৪ কার্তিক, ১৪৩৩

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড; দূতাবাসের ভূমিকা স্পষ্ট করার দাবি জামায়াত আমিরের

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ২০:০৮

শেয়ার

সৌদিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড; দূতাবাসের ভূমিকা স্পষ্ট করার দাবি জামায়াত আমিরের
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা নগরীতে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। দণ্ড কার্যকরের পর সরকারের পক্ষ থেকে ‘পরে জানতে পেরেছি’ মর্মে বক্তব্য আসায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দূতাবাস যথাযথ দায়িত্ব পালন করেছে কি না, তা জনগণের সামনে পরিষ্কার করা সরকারের নৈতিক দায়িত্ব।

সোমবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, সম্প্রতি মক্কায় দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার পর থেকে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বাংলাদেশের জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত রয়েছেন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি দেশের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ন রাখাই দূতাবাস ও কনস্যুলেটগুলোর মূল দায়িত্ব।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘উক্ত দুই ব্যক্তির বিচারিক প্রক্রিয়ায় আমাদের দূতাবাস কিংবা কনস্যুলেটের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না? সরকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ব্যক্তির বক্তব্য থেকে সঙ্গত কারণেই প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে, যখন তাঁরা বলেছেন—দণ্ড কার্যকর হওয়ার পরে বিষয়টি আমরা জানতে পেরেছি।’

প্রতিটি দেশ তাদের নিজস্ব আইনের আলোকেই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ‘যেহেতু এই দুজন প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিক এবং বিষয়টি ছিল চরম দণ্ডের (মৃত্যুদণ্ড), কাজেই এ ব্যাপারে দূতাবাস তার ওপর অর্পিত আইনি ও কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছে কি না, সরকার যেন জনগণের কাছে তা স্পষ্ট করে।’

তিনি আরও বলেন, যে অপরাধে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, এ ধরনের কোনো প্রবণতা বা কার্যকারণ যদি প্রবাসীদের মাঝে সামান্যতমও থেকে থাকে, তবে তা প্রতিরোধে সরকার ও দূতাবাসের কী উদ্যোগ রয়েছে—সেটিও জানার বিষয়। সরকার ও বাংলাদেশ দূতাবাস এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান জাতির সামনে পরিষ্কার করতে বাধ্য।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কবার্তা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো প্রবাসী যেন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় দূতাবাসের প্রাপ্য আইনি ও কূটনৈতিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বিদেশের মাটিতে দেশের মর্যাদা রক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন মেনে চলার বিষয়ে প্রবাসীদের সচেতন করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।