রবিবার

১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ৩ কার্তিক, ১৪৩৩

এই সরকার আগের স্বৈরাচারের পথ ধরেই হাঁটছে: জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৫২

শেয়ার

এই সরকার আগের স্বৈরাচারের পথ ধরেই হাঁটছে: জামায়াত আমির
ছবি সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের পথ অনুসরণ করে বিএনপি সরকার দেশ পরিচালনা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছে বিএনপি সরকার। বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে ব্যর্থ হওয়ায় এখন থেকে সরকারকে নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে জামায়াত।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি এ আয়োজন করে।

শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় যাওয়ার পর রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি রাজনৈতিক দল ছিল। কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল না। জামায়াত চেয়েছিল, গণভোট আগে অনুষ্ঠিত হোক, যাতে এটি অনিশ্চয়তায় না পড়ে। কিন্তু বিএনপি তা চায়নি। বরং একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শপথ ও গণভোট নিয়ে বিএনপির সমালোচনা

জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচন কমিশন একজন সংসদ সদস্যকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংসদ পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। তাঁর অভিযোগ, ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র আচরণ শুরু করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিএনপি এখন দাবি করছে, জনগণ ভোট দিয়ে পাঁচ বছরের জন্য সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছে। কিন্তু গণভোটের রায়ও মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দলকে সংসদের বাইরে আন্দোলনে যেতে হতো না। বিএনপিই বিরোধী দলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের বরাদ্দ না দেওয়ার অভিযোগ

সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের কাউকে তা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সরকারি দলের ২০৮টি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, অথচ বিরোধী দলের একজন সংসদ সদস্যও বরাদ্দ পাননি।

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে পুরোনো রাজনীতির অবসান ও নতুন রাজনীতির সূচনা হবে বলে জনগণ আশা করেছিল। কিন্তু দেশকে আবারও পুরোনো ধারায় ফিরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এমনকি মহিষের ওপরও কর আরোপ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

শফিকুর রহমান বলেন, নানা ধরনের ইঞ্জিনিয়ারিং ও চুরি-চামারির পরও জনগণ তাঁদের বিরোধী দলে বসিয়েছে। এসব আসনের ৮৯ জন সংসদ সদস্য দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও জামায়াত তাদের কথা বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায় করে ছাড়বেন তাঁরা।

সরকারের পতনের চেয়ে সফলতা চেয়েছিল জামায়াত

নব্য ফ্যাসিবাদের পতন হবে বলেও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, নানা ধরনের লোভ-লালসা দেখানো হলেও জামায়াত সেসব প্রত্যাখ্যান করেছে। বিরোধী দল হিমালয়ের মতো অটল থেকে লক্ষ্যপানে এগিয়ে যাবে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান তাদের জন্য শিক্ষা ও অনুপ্রেরণা।

শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের পতন চাওয়ার চেয়ে তাঁরা সরকারের সফলতা চেয়েছিলেন। কারণ, সরকারের সফলতা মানেই দেশের সফলতা।

তিনি বলেন, এত দিন তাঁরা সরকারকে সহযোগিতা করার কথা বলে আসছিলেন। এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করার ঘোষণা দিচ্ছেন। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী দলের সহযোগিতা নিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতাও সরকারের নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।