শনিবার

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২ কার্তিক, ১৪৩৩

মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, সমালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৩৭

শেয়ার

মাদকবিরোধী অভিযানে পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রী ইশরাক, সমালোচনা
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস এবং অন্য হাতে পিস্তল নিয়ে অংশ নিয়েছেন ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। শনিবার বিকেলে দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে তাঁর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে অভিযানের দুটি ভিডিও প্রকাশ করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। একজন সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীর পিস্তল হাতে এমন অভিযানে অংশ নেওয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

প্রথম ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।

ভিডিওর শুরুতে গাড়ি থেকে পিস্তল হাতে প্রতিমন্ত্রীকে নামতে দেখা যায়। এ সময় মাইকে তাঁকে বলতে শোনা যায়, এই দাঁড়াও। এখন বসো। পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে। তোরা শহরটাকে ধ্বংস করতে চাস। এলাকাটাকে ধ্বংস করতে চাস।

ভিডিওতে ইশরাক হোসেনকে পিস্তল উঁচিয়ে ধরতেও দেখা যায়। তাঁর সহযোগীদের দৌড়ে গিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ধরার চেষ্টা করতে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন পালিয়ে গেলেও বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়।

ভিডিওতে প্রতিমন্ত্রীর হাতে থাকা পিস্তলটি কিছু অংশে অস্পষ্ট করে দেওয়া হলেও অন্য কিছু অংশে তা স্পষ্ট দেখা যায়। এ ছাড়া তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে।

দ্বিতীয় ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা হয়, লাইভ অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে দিলেন ইশরাক, বিক্রেতারা ধরা। ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।

ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, এর আগেও ঢাকা-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়েছেন ইশরাক হোসেন। এলাকাটিকে মাদকমুক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এলাকাবাসীর সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা

এ ঘটনা নিয়ে সমালোচনা করে আল-জাজিরার সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের তাঁর ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, একদিকে সরকারপ্রধান পজিটিভ ভাবমূর্তি তৈরির চেষ্টা করছেন, আরেকদিকে এমন গর্দভের মতো কাজ করে তাঁর সেই চেষ্টা ব্যর্থ করা তো হচ্ছেই, সঙ্গে জনগণের সামনে সরকার দলকে একটি ঠাট্টা-তামাশার বস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।

অভিযানের কারণ জানালেন ইশরাক

অভিযানের বিষয়ে ইশরাক হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটে বলে নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে অভিযানে তাঁর সঙ্গে অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরাও ছিলেন।

তিনি জানান, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় ছোট ছোট অস্থায়ী ঘর তৈরি করে সেখানে মাদক কেনাবেচা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে ওই আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। মাদকসেবী ও কারবারিদের অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর অভিযান চালানো হয়।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক হোসেন বলেন, এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান তাঁর ঢাকা-৬ আসনে নেই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাদক কারবারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। এ এলাকায় যত বড় মাদক কারবারিই হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক, এমনকি তাঁর নিজের দলের হলেও তাদের আরও বড় শাস্তি হবে।

ছয়জনকে থানায় নেওয়ার কথা জানাল পুলিশ

এ বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান মনির বলেন, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন ছয়জনকে আটক করে থানায় ফোন দেন। পরে থানা থেকে পুলিশ সদস্যরা গিয়ে তাঁদের নিয়ে আসেন।

ওসি আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের কাছে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে। সেগুলো হেরোইন কি না, তা পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।