শনিবার

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ২ কার্তিক, ১৪৩৩

মিষ্টির শূন্য আসনে এমপি হতে চান সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিএনপির ৭০ নেত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১০:১২

শেয়ার

মিষ্টির শূন্য আসনে এমপি হতে চান সাবেক সংসদ সদস্যসহ বিএনপির ৭০ নেত্রী
ছবি সংগৃহীত

ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির পদত্যাগে শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেতে ফরম সংগ্রহ করেছেন ৭০ জন নারী নেত্রী। তাঁদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য, দলের কেন্দ্রীয় নেত্রী এবং জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সংগঠকেরা রয়েছেন।

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তাঁরা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।

ফরম সংগ্রহ করা নেত্রীরা বিগত আন্দোলন-সংগ্রামে নিজেদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন সময়ে নির্যাতনের শিকার হওয়ার বিষয় তুলে ধরে দলীয় মূল্যায়নের আশা করছেন। পাশাপাশি সংসদে গিয়ে নিজ নিজ এলাকার পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার সুযোগ চান তাঁরা। তবে একটি আসনে উপনির্বাচন হওয়ায় বিএনপিকে শেষ পর্যন্ত একজনকেই মনোনয়ন দিতে হবে।

বিএনপির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়ন ফরম বিতরণের সময় নির্ধারিত ছিল। ফরম পূরণ করে আজ শনিবার একই কার্যালয়ে জমা দিতে হবে। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ফরম জমা নেওয়া হবে। দলীয় মনোনয়নের জন্য ফরম জমা দেওয়ার পর নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিলের পৃথক প্রক্রিয়া রয়েছে।

মনোনয়নপ্রত্যাশীদের তালিকায় সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেত্রীরা

মিষ্টির শূন্য আসনে মনোনয়ন পাওয়ার আলোচনায় আগে যাঁদের নাম এসেছিল, তাঁদের প্রত্যেকেই ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির সহমানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া এবং দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহানা আক্তার সানু ও আয়শা সিদ্দিকা মনি।

এ ছাড়া ফরম সংগ্রহ করেছেন মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক শাহিনুর বেগম, মহিলা দলের কেন্দ্রীয় মানব উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক খন্দকার ফারহানা আতিকা, বরিশাল মহানগর বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক মাসুদা আফরোজ হক, ঢাকা মহানগর উত্তর মহিলা দলের সভাপতি রুনা লায়লা এবং দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসনাহেনা হীরা।

প্রবীণ নারী নেত্রী জেলী চৌধুরীও মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৯ আসন থেকে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ফরম সংগ্রহকারীদের মধ্যে আরও রয়েছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সাবেরা আলাউদ্দিন হেনা ও সিমকী ইমাম খান, চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা দলের সাবেক প্রচার সম্পাদক দেওয়ান মাহমুদা আক্তার, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় থাকা সৈয়দা আদিবা হোসেন এবং ইডেন মহিলা কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক রেহানা আক্তার শিরিন।

এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনে এসব নেত্রীর অনেকেই মনোনয়ন চেয়েও পাননি। তাঁদের কেউ কেউ সরাসরি সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। মিষ্টির পদত্যাগের পর তাঁদের সামনে আবারও সংসদ সদস্য হওয়ার সুযোগ এসেছে। ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নেত্রীদের পাশাপাশি মহিলা দল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংগঠকেরাও এবার মনোনয়ন চাইছেন।

আন্দোলনে ভূমিকা তুলে ধরে মূল্যায়নের আশা

মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা রুনা লায়লা জানান, শেখ হাসিনার পতনের আন্দোলন করতে গিয়ে বিগত দিনে তাঁর বিরুদ্ধে ২২টি মামলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর তাঁর মাথায় গুলি লেগেছিল। ঢাকা উত্তরের সব অলিগলি তাঁর চেনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলের প্রয়োজনে তাঁকে বেছে নেওয়া হবে এবং এবার তিনি মূল্যায়ন পাবেন বলে বিশ্বাস করেন।

হাসনাহেনা হীরা জানান, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রাখার পর এখন তিনি এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে চান। এ জন্য সরাসরি সংসদে উপস্থিত থেকে ভূমিকা রাখার সুযোগকে প্রয়োজনীয় মনে করছেন তিনি।

নিজের এলাকা অনেক পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে হাসনাহেনা হীরা বলেন, তাঁর এখন দায়িত্ব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কিছু করা। তবে সরকারে সরাসরি না থাকলে তা তাঁর জন্য বেশ কঠিন। এ কারণেই তিনি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দল এবং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে মূল্যায়ন করবেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

১২ নভেম্বর সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচন

গত ২৪ সেপ্টেম্বর মিরপুরের রাড্ডা মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠার পর ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তাঁর পদত্যাগের দিনই সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করা হয়।

এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ নভেম্বর। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ২৬ অক্টোবর। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ২৭ অক্টোবর এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর।

আসনটি বিএনপির জন্য বরাদ্দ থাকায় দলটিই এখানে প্রার্থী মনোনয়ন দেবে। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। ফলে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা ৭০ জন নেত্রীর মধ্যে শেষ পর্যন্ত কে দলীয় মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা-ই এখন এই আসনের পরবর্তী সংসদ সদস্য নির্ধারণের প্রধান বিষয়।