শনিবার

১৭ অক্টোবর, ২০২৬ ১ কার্তিক, ১৪৩৩

গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:৫১

শেয়ার

গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়: রুমিন ফারহানা
ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, দেশে এখন গরু-মহিষকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হয়। নিজ এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও অনিয়ম বরদাশত করা হবে না জানিয়ে এমন ঘটনা ঘটলে সরাসরি রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার প্রত্যন্ত পাকশিমুল ইউনিয়নের জয়দরকান্দি গ্রামের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন রুমিন ফারহানা।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান

দেশের বর্তমান চাঁদাবাজির পরিস্থিতি তুলে ধরে রুমিন ফারহানা বলেন, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে গবাদিপশুকে ঘাস খাওয়াতেও চাঁদা দিতে হচ্ছে। চাঁদা না দিলে খামারের মাছে বিষ মেশানোর মতো জঘন্য অপরাধও ঘটানো হচ্ছে।

নিজ এলাকায় চাঁদাবাজি হলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁর এলাকায় চাঁদাবাজি হলে তিনি কাউকে চিনবেন না, বরং অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে রাজপথে দাঁড়াবেন। ডান পাশে বালুচোর আর বাম পাশে মামলাবাজ নিয়ে রাজনীতি করতে চান না বলেও জানান তিনি।

স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান

রাজনীতিতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিজের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে এই সংসদ সদস্য বলেন, সারের ডিলারশিপ বা রাস্তার কাজের ঠিকাদারি দেওয়ার মতো কোনো আত্মীয় তাঁর নেই। কাউকে চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করার প্রয়োজন নেই বলেও আশ্বাস দেন তিনি।

দলীয় কর্মীদের আচরণ সম্পর্কে সতর্ক করে রুমিন ফারহানা বলেন, কোনো কর্মী ভোটারের সঙ্গে বেয়াদবি করলে বা অনিয়মে জড়ালে নাম-পরিচয় গোপন রেখে লিখিতভাবে তাঁকে জানাতে হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রেখে অভিযুক্ত কর্মীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনি ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ

দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের সরকার গঠিত হওয়ায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতির প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। তবে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, বাজারে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজির নিচে কোনো সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। ঢাকা শহরে একটি ডিমের দাম ১৫ টাকায় পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের এমন চড়া দামে সাধারণ ও গরিব মানুষের জীবনযাপন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।