জামায়াত রাজনীতি করতে পারলে আওয়ামী লীগ কেন পারবে না—এমনই এক বেফাঁস মন্তব্য করে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।
নুরের বক্তব্য
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বাংলা একাডেমিতে ছাত্র অধিকার পরিষদ কর্তৃক প্রকাশিত ‘মুক্তি’ ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচন ও আলোচনা সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়েও বেশ সমালোচনা করেন নুর।
বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় নানা আলোচনা-সমালোচনা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যখন উত্তপ্ত দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন, ঠিক তখনই দেশের দায়িত্বশীল একজন ব্যক্তির মুখে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগকে স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরে—এমন বক্তব্য বিশ্লেষকদের মধ্যে জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এমনকি আওয়ামী লীগের সঙ্গে নুরের কোনো গোপন সমঝোতা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছে অনেকে।
মাহফুজ আলমের সমালোচনা
অন্যদিকে, নুরুল হক নুরের এই বক্তব্যের পরপরই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ‘জুলাই-পরবর্তী রাজনীতির আজব দশা’ শিরোনামে একটি পোস্ট করেন।
সেখানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তরুণদের রাজনৈতিক দল এনসিপির জোট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতার প্রতি আকাঙ্ক্ষার কারণেই সংস্কারের নামে বিএনপির বিরোধিতা করে জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হয়েছে তারা। এ ছাড়া জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হওয়ার খেসারত সেক্যুলার সমাজ ও আলেম সমাজকে দিতে হবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মাহফুজ আলম।
রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক
একদিকে, জামায়াতের সমালোচনা করতে গিয়ে গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগকে স্বাভাবিকভাবে তুলে ধরা; অন্যদিকে, এর পরপরই সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলমের ফেসবুক পোস্ট—সব মিলিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে যেন নতুন করে দানা বাঁধছে বিতর্কের মেঘ। যা শুধু দেশজুড়েই আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়নি, বরং রাজনৈতিক মহলেও তুলেছে নানা প্রশ্ন।
আরও পড়ুন:







