প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য আল্লামা মুফতি ড. সৈয়দ মুহাম্মদ এনায়েতুল্লাহ আব্বাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মুহাম্মদ রাশেদ খান। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নানা চাপের মধ্যেও আব্বাসী ইসলামের পক্ষে আপসহীন অবস্থান ধরে রেখেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (১১ অক্টোবর) আব্বাসী মঞ্জিল জৈনপুরী দরবার শরীফে আল্লামা আব্বাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন রাশেদ খান। এ সময় তিনি ইসলামের পক্ষে আব্বাসীর সোচ্চার ভূমিকা, বিভিন্ন আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থানের প্রশংসা করেন।
রাশেদ খান বলেন, আল্লামা আব্বাসীর বক্তব্য তিনি প্রায়ই শোনেন। তিনি সব সময় ইসলামের পক্ষে সোচ্চার থাকেন। অনেকে ইসলামের পক্ষে কথা বলতে গিয়ে কখনো কখনো ইসলামের বিপক্ষে চলে গেলেও আব্বাসীর বক্তব্য বরাবরই ইসলামের পক্ষে থাকে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরবিরোধী আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ খান বলেন, আন্দোলনের প্রথম দিন বর্তমান সরকারের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরসহ কয়েকজন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন। পরদিন হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনে যুক্ত হয়। ওই সময়ে আল্লামা আব্বাসী মানুষকে আন্দোলনে উদ্বুদ্ধ করেছেন এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে পানি বিতরণসহ বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে অনেক আলেম-ওলামাকে আপস করতে দেখা গেলেও আল্লামা আব্বাসীকে তিনি আপস করতে দেখেননি। বরং তিনি ছাত্র-জনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। বিভিন্ন আন্দোলনেও তাঁর ভূমিকা প্রশংসনীয় ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আল্লামা আব্বাসীর সঙ্গে সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, তাঁর দোয়া নেওয়া ও সালাম জানাতেই দরবার শরীফে গিয়েছিলেন তিনি। আব্বাসীর আন্তরিকতা তাঁকে মুগ্ধ করেছে। তাঁর সঙ্গে বুকে বুক মিলিয়ে যে প্রশান্তি পেয়েছেন, সেই অনুভূতির খোঁজেই সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান রাশেদ খান।
সাক্ষাৎকালে একজন ইসলামি চিন্তাবিদ হিসেবে সরকারের প্রতি আল্লামা আব্বাসীর কোনো পরামর্শ থাকলে তা তাঁর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানান রাশেদ খান।
দেশ পুনর্গঠনে সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছেন। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে আল্লামা আব্বাসীর সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে ঐক্য বজায় রাখতে একজন গ্রহণযোগ্য আলেম হিসেবে আব্বাসীকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আল্লামা আব্বাসীর বিভিন্ন সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খান বলেন, তখন তাঁর বক্তব্য নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন। তবে সময়ের সঙ্গে তাঁর অনেক বক্তব্যের যথার্থতা স্পষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারাকে একজন আলেমের গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা বলেও উল্লেখ করেন রাশেদ খান।
বিএনপির ইসলামি মূল্যবোধের প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, দলটি সব সময় ইসলামি মূল্যবোধ ধারণ করে কাজ করার চেষ্টা করে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মধ্যেও ইসলামি মূল্যবোধের চেতনা রয়েছে। দেশের আলেম সমাজের সঙ্গে বিএনপির হৃদয়ের সম্পর্ক রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাক্ষাতের শেষ পর্যায়ে আল্লামা আব্বাসীর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করে রাশেদ খান বলেন, ইসলামের খেদমতে একজন খাদেম হিসেবে আব্বাসী যে ভূমিকা পালন করছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় তিনি মুগ্ধ হয়েছেন।
আরও পড়ুন:







