শনিবার

১০ অক্টোবর, ২০২৬ ২৫ আশ্বিন, ১৪৩৩

দুঃসময়ের ত্যাগীদের কি ভুলে গেলো বিএনপি?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৮

শেয়ার

দুঃসময়ের ত্যাগীদের কি ভুলে গেলো বিএনপি?
ছবি সংগৃহীত

‘খালেদা জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই! তারেক জিয়ার ভয় নাই, রাজপথ ছাড়ি নাই!’ ফ্যাসিবাদী আমলে রাজপথে বিএনপির পক্ষে এভাবেই স্লোগান দিয়েছেন, খুলনা মহানগর ছাত্রদল নেতা খান সাইফুল।

ফ্যাসিবাদী শাসনের দীর্ঘ ১৭ বছরে গুম, খুন, হামলা-মামলা আর জেল-জুলুমের কঠিন বাস্তবতার মুখেও বিএনপির রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ায়নি দলটির অসংখ্য নেতাকর্মী। দমন-পীড়নের ঝড়েও দলের জন্য বিসর্জন দিয়েছেন ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, এমনকি পরিবারের মায়াটুকুও।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে—দলের দুঃসময়ে ছায়ার মতো পাশে থাকা সেই নেতাকর্মীরা কি আজ সুসময়ে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও মূল্যায়নটুকু পাচ্ছে? নাকি সুবিধাবাদী আর ‘হাইব্রিড’ নেতাদের ভিড়ে ক্রমেই আড়াল হয়ে যাচ্ছে তাঁদের দীর্ঘদিনের ত্যাগ-তিতিক্ষা?

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রদল নেতা খান সাইফুলের একটি লাইভ ভিডিওকে কেন্দ্র করে নতুন করে সামনে এসেছে এই প্রশ্নটিই। খুলনার সন্ধানী মেডিকেল কেয়ার অ্যান্ড হসপিটালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন-চার দিন ধরে ভর্তি থাকলেও মহানগর বিএনপির একজন নেতা ছাড়া, দলের অন্য কেউ তাঁর খোঁজ নিতে আসেনি বলে, অভিযোগ করতে দেখা যায় ভিডিওতে।

এ ছাড়া নিজের ত্যাগের কথা তুলে ধরে দলের ত্যাগী ও নির্যাতিত নেতাকর্মীরা ভালো নেই বলেও অভিযোগ করেন খান সাইফুল।

এ সময় বিষয়টি নিয়ে দলের অন্যান্য নেতার ওপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায় তাঁকে।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিনের জুলুম-নির্যাতনই তাঁর এই কঠিন অসুস্থতার কারণ বলে উল্লেখ করেন খান সাইফুল। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজনৈতিক জীবনে সহ্য করা নির্যাতনের অভিজ্ঞতার কথাও।

ফেসবুক লাইভে খান সাইফুলের দলের প্রতি এই অভিমানী বার্তার মধ্যেই সামনে আসে ফ্যাসিবাদী আমলে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার সময় খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে নিয়ে তার দেয়া জ্বালাময়ী সেই স্লোগানের ভিডিও।

ত্যাগীদের মূল্যায়ন নিয়ে প্রশ্ন

একদিকে দীর্ঘ ১৭ বছরে জেল-জুলুমের শিকার হওয়া বিএনপির ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন না করে সুবিধাভোগীদের দলের বিভিন্ন পদ-পদবিতে আসীন করা নিয়েও বিভিন্ন সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি। অন্যদিকে দলের ত্যাগী নেতাদের অবমূল্যায়ন এবং তাদের মনোনয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে নানা সময়ে।

জানা যায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুন নবী খান সোহেল, বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের পক্ষ থেকে মনোনয়ন না দেয়ায় দলটির মনোনয়নপ্রক্রিয়া নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সমালোচনা হয়েছে।

এ ছাড়া সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা রুহুল কবির রিজভী, আব্দুস সালাম পিন্টু, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মেজর কামরুল ইসলাম, এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও নুরুল ইসলাম মনিসহ বিএনপির দুঃসময়ে মামলা, কারাবাস ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মুখে পড়া এসব নেতাকে দলটির সুসময়ে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে দাবি সমালোচকদের।

দীর্ঘ ১৭ বছরের ত্যাগ, নির্যাতন আর রাজপথের সংগ্রামের পর বিএনপির সামনে তাই প্রশ্নটি থেকেই যাচ্ছে—দুঃসময়ের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নেতাকর্মীরা কি সুসময়ে তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও স্বীকৃতি পাবেন, নাকি রাজনৈতিক পালাবদলে তাঁদের ত্যাগ-তিতিক্ষার ইতিহাস চাপা পড়ে থাকবে?