রবিবার

৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৪, আহত ৫২৭

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৩২

আপডেট: ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৭:৩৫

শেয়ার

সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত ৪, আহত ৫২৭
ছবি সংগৃহীত

দেশের বিভিন্ন স্থানে গত সেপ্টেম্বরে রাজনৈতিক সহিংসতার ৬৮টি ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ৫২৭ জনের বেশি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। একই মাসে গণপিটুনি বা মব সহিংসতার ৩৫টি ঘটনায় অন্তত নয়জন নিহত ও ৩২ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি’ (এইচআরএসএস) প্রকাশিত মাসিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সংগঠনটির সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সেপ্টেম্বরে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক সহিংসতায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ৩৫ ঘটনা

প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ৩৫টি ঘটনা ঘটে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ৩৪০ জন আহত হন। বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হন ৬১ জন।

বিএনপি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মধ্যে ছয়টি সংঘর্ষের ঘটনায় একজন নিহত ও ৪২ জন আহত হন। জামায়াত-আওয়ামী লীগের মধ্যে দুটি সংঘর্ষে একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। বিএনপি-এনসিপির মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে আহত হন ১৬ জন। বিএনপি ও অন্য দলের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে আহত হন ১৫ জন।

এ ছাড়া বিভিন্ন দলের মধ্যে সাতটি ঘটনায় একজন নিহত ও ৫০ জন আহত হন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত চারজনের মধ্যে আওয়ামী লীগের দুজন, বিএনপির একজন ও জামায়াতের একজন রয়েছেন।

নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার ২৩৬ জন

এইচআরএসএসের প্রতিবেদনে বলা হয়, সেপ্টেম্বরে সারা দেশে ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে অন্তত ৭৯ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের শিকারদের ৬০ শতাংশ বা ৪৭ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু-কিশোরী।

এ সময়ে ১৩ জন নারী ও শিশু গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং ধর্ষণের পর পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। নানা সহিংসতায় মাসজুড়ে ৭৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। পারিবারিক সহিংসতায় মারা গেছেন আরও ৪৩ নারী।

মব সহিংসতায় নিহত ৯

প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলার দুর্বলতায় সেপ্টেম্বরে ৩৫টি মব সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় নয়জন নিহত ও ৩২ জন আহত হন।

এ ছাড়া আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজিকে কেন্দ্র করে ৬৩টি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দলীয় কার্যালয়ে হামলা-লুটপাট চালানো হয়। যৌথ অভিযান ও বিশেষ অভিযানে ২৮৭টি ঘটনায় অন্তত ২১ হাজার ২০৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিভিন্ন কারাগারে ২১ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও নির্যাতনে মারা গেছেন তিনজন। পরিত্যক্ত স্থান ও নদী-খাল থেকে ৬৯টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।

এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সামাজিকমাধ্যমে মতপ্রকাশে বাধা, মব সহিংসতা ও কারা হেফাজতে মৃত্যু নাগরিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করছে। মানবাধিকার রক্ষায় সরকারকে দ্রুত জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।