শুক্রবার

২ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭ আশ্বিন, ১৪৩৩

নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:১৮

শেয়ার

নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসককে বদলি ঘিরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। নুরুল হক নুর তার পছন্দের প্রার্থী জহিরুল ইসলামকে নিয়োগ দিতে, ডিসি ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে তদবির করেন।

কিন্তু, ভাইভা বোর্ডে সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে ব্যর্থ জহিরুলের প্রক্সি জালিয়াতি ধরা পড়লে, ডিসি তাকে নিয়োগ না দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এর পরপরই বিসিএস পঁচিশ ব্যাচের এই কর্মকর্তাকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

প্রতিমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি জানান, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর সংবাদ ছেপেছে তাকে নিয়ে। ডিসির বদলিকে যুগ্মসচিব পদে পদোন্নতিজনিত স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলে দাবি করেন তিনি।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সমালোচনা

এদিকে, প্রতিমন্ত্রীর আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি বাংলাদেশির বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ঘোষণার কড়া সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, বিশাল এই লক্ষ্যের বিপরীতে এ পর্যন্ত প্রকৃত অর্জন ও ঘাটতি ঠিক কতটা। বিদেশে পাঠানো কর্মীদের মধ্যে কতজন দক্ষ পেশায় গেছেন, আর সরকার নির্ধারিত খরচের তুলনায় বাস্তবে অভিবাসন ব্যয় কতটা কমেছে, সে হিসাব দাবি করেন তিনি।

এছাড়া, নতুন শ্রমবাজার চালুর অগ্রগতি এবং সেখানে কতজন কর্মী পাঠানো সম্ভব হয়েছে, তা স্পষ্ট করার আহ্বান জানান নাসীরুদ্দীন।

এক কোটি লক্ষ্যের জন্য বছরে যে অতিরিক্ত কর্মী প্রয়োজন, তাদের কীভাবে তৈরি করা হবে এবং একশো দশটি প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের কত শতাংশ শেষ পর্যন্ত চাকরি পেয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

পাশাপাশি, প্রশিক্ষণের আন্তর্জাতিক মান, দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমানোর বাস্তব চিত্র এবং প্রবাসীদের অমীমাংসিত অভিযোগ নিষ্পত্তির প্রকৃত অবস্থা জানতে চেয়েছেন এনসিপির এই নেতা।

সবশেষে, প্রতি বছর লক্ষ্য, অর্জন, খরচ ও ঘাটতির হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশের জোর দাবি জানান তিনি।

শুধু প্রশ্নই নয়, প্রতি তিন মাস অন্তর অভিবাসন পরিস্থিতি, শ্রমবাজারের অবস্থা এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির হার নিয়ে একটি লক্ষ্য বনাম অর্জন রিপোর্ট প্রকাশের পরামর্শ দেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। সাথে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, এসব হিসাব নিয়মিত প্রকাশ না করলে প্রবাসীরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাকে পাঠানো প্রতিটা টাকার হিসাব কড়ায়-গণ্ডায় বুঝে নেবে।