বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, রাড্ডা-কাণ্ডের দায় শুধু একজন নারী সংসদ সদস্যের ওপর নয়, এর সব দায় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। একই সঙ্গে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি রোধ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার বিকেলে সিদ্ধিরগঞ্জের মাদানী চত্বরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখা আয়োজিত নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মামুনুল হক।
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি
মামুনুল হক বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি অনুষ্ঠিত গণভোটে জনগণ যে রায় দিয়েছে, সরকারকে তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।
জনগণের গণরায় বাস্তবায়নে সরকার ছয় মাস বিলম্ব করলেও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস রাজপথে নামতে ছয় মাস সময় নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত এবং একইসঙ্গে উভয়ের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। একটি ভোটের ফল বৈধ হলে অন্য ভোটের ফলকে অবৈধ বলার সুযোগ নেই। গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করারও সমালোচনা করেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারে স্থায়ী সমাধানের আহ্বান
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে আল্লামা মামুনুল হক বলেন, সংশোধনের মাধ্যমে সাময়িক পরিবর্তন নয়, সংস্কারের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান করতে হবে। ভবিষ্যতে কোনো সরকার যেন সহজে সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো পরিবর্তন করতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করা যাবে না। প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি
গ্যাস, বিদ্যুৎ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, জনগণের প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবাগুলোকে সিন্ডিকেটের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে। এসব সংকট সমাধানে সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাড্ডা-কাণ্ডের দায় শুধুমাত্র একজন নারী সংসদ সদস্যের ওপর নয়; এই ঘটনার সকল দায় প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রীকে নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার আহ্বানও জানান তিনি।
মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছে। জুলাই আন্দোলনের চেতনার ভিত্তিতে নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে দলীয় নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যারা
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মাহবুবুল হক, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা এনামুল হক মুসা, মাওলানা মামুনুর রশীদ, খন্দকার আনোয়ার হুসাইন, ডা. আল আমিন রাকীবসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার সভাপতি মাওলানা কারী হাসমত আলী। এতে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সিদ্ধিরগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







