মঙ্গলবার

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

দুর্নীতির অভিযোগ কী আছে আসিফ মাহমুদের ভাগ্যে?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:১২

শেয়ার

দুর্নীতির অভিযোগ কী আছে আসিফ মাহমুদের ভাগ্যে?
ছবি সংগৃহীত

দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার করা রিট আবেদনটি হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চে শুনানির পর এটি বাদ দেওয়া হয়।

আসিফ মাহমুদের আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মুসা জানান, আবেদনটি খারিজ করা হয়নি। নিয়মিত আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে এটি নতুন বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে, ২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর দুদকের দুটি প্রেস ব্রিফিংয়ের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে, রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) এই রিট আবেদনটি করেছিলেন আসিফ মাহমুদ।

তার দাবি, প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর্যায়েই দুর্নীতি ও অর্থপাচারের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করা সংস্থাটির ‘তথ্য অবমুক্তকরণ নীতিমালা-২০১১’ এবং সংবিধানের ৩১ অনুচ্ছেদে থাকা নাগরিকের মর্যাদা সুরক্ষার পরিপন্থি। রিটে আগের ব্রিফিংয়ের বক্তব্য প্রত্যাহার এবং চলমান অনুসন্ধান নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নতুন কোনো প্রেস ব্রিফিং না করার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়।

নতুন অভিযোগ অনুসন্ধানে

এদিকে, সাবেক এই উপদেষ্টার বিরুদ্ধে পাহাড়সম দুর্নীতির নতুন অভিযোগ পেয়েছে দুদক, যা আগের চলমান অনুসন্ধানের সঙ্গেই যুক্ত করে তদন্ত করা হচ্ছে।

দুদকের তথ্যমতে, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ওয়াসা, এলজিইডি এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে কর্মকর্তা নিয়োগে মোট ১৮৭ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেন এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

সবচেয়ে বড় অভিযোগটি এসেছে অর্থপাচার নিয়ে। দুদক জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদ ও তার পরিবারের সদস্যরা সিন্ডিকেট করে পর্তুগাল, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করেছেন।

তবে, দুদক স্পষ্ট করেছে, এসব অভিযোগ এখনো প্রাথমিক অনুসন্ধান পর্যায়ে রয়েছে এবং তদন্ত শেষেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।