শনিবার

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১ আশ্বিন, ১৪৩৩

সাদিক কায়েমকে সতর্ক করে ফেসবুকে রফিকুল ইসলাম মাদানীর পোস্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৪:০২

শেয়ার

সাদিক কায়েমকে সতর্ক করে ফেসবুকে রফিকুল ইসলাম মাদানীর পোস্ট
ছবি সংগৃহীত

ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েমের জয়কে একসময় নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী। তবে এবার সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।

মাদানী জানান, ডাকসুতে সাদিক কায়েম জয়ী হওয়ার পর তিনি অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন এবং সারারাত জেগে ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন। ওই সময়ের পোস্টগুলো তাঁর ফেসবুক আইডিতে দেখা যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনি এই জয়কে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় এবং নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার এবং জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হয়েছে উল্লেখ করে মাদানী বলেন, এখানে শিবিরের হাতে ক্ষমতা থাকা মানে দিল্লির জন্য বড় ভয়। এ কারণেই তিনি সাদিক কায়েমের জয়ে খুশি হয়েছিলেন।

সাদিক কায়েমের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা

সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ অনেক কাজ করেছেন উল্লেখ করে মাদানী বলেন, সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট দেওয়া, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভ্যানগাড়ি, আলাদা বাস এবং গরমের দিনে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা প্রশংসনীয়।

তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, মুসলিম হিসেবে শুধু এসব কাজের জন্য কাউকে সমর্থন করা যায় কি না। তাঁর মতে, দুনিয়ার সব সুযোগ-সুবিধার চেয়েও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক জায়গা নয় এবং সব মেয়েও পর্দা করে না উল্লেখ করে মাদানী প্রশ্ন করেন, মেয়েরা বাস্কেটবল খেললে দোষের কী। তাঁর বক্তব্য, বিষয়টি শুধু খেলার নয়; শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে মেয়েদের খেলার আয়োজন করে সেটিকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপন করাই তাঁর প্রশ্নের জায়গা। আরমান নামে একজন আয়োজককে হাততালি দিতে বলা নিয়েও আপত্তি জানান তিনি।

আলেমদের স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান

সাদিক কায়েমকে অনেক মেয়ে অনুসরণ করেন এবং নেতা মনে করেন উল্লেখ করে মাদানী বলেন, সাদিক কায়েমকে শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ অনেক আলেমের সঙ্গে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দেখা যায়। জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেম তাঁকে সমর্থন করেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাদানীর ভাষ্য, এসব দেখে সাদিক কায়েমকে অনুসরণ করা মেয়েরা তাঁর কর্মকাণ্ডকে সঠিক মনে করতে পারে। মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার নারীরা টকশোতে মেয়েরা শর্ট প্যান্ট পরলেও সমস্যা নেই বললে, এসব মেয়ের কাছে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ কারণে তিনি তাঁর উল্লেখ করা শায়েখদের এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান। সাদিক কায়েমকে অনুসরণ করা মেয়েদের কাছে এসব আলেমের বক্তব্যও পৌঁছায় না উল্লেখ করে মাদানী বলেন, এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক হতে পারবেন।

উন্নয়নের পাশাপাশি আদর্শের প্রশ্ন

মাদানী বলেন, বিষয়টি শুধু উন্নয়নের নয়। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগও অনেক উন্নয়ন করেছিল। কিন্তু তাঁরা শুধু উন্নয়ন দেখেননি; তাদের এজেন্ডার বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। কারণ তাঁদের কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, এপস্টিন ফাইলে জড়িত কুখ্যাত নরপিশাচ আমেরিকা ও পশ্চিমের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল প্রমাণ করে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা যদি ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলোকে গৌণ করে দেয়, তাহলে কাকতালীয়ভাবে সেই ক্ষমতা এলেও তা ইসলামের পক্ষের হবে না এবং কোনো ফায়দাও হবে না। তখন সেই ক্ষমতার বিরুদ্ধেও তাঁদের স্পষ্ট অবস্থান থাকবে বলে জানান তিনি।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মাদানীর পোস্টটিতে প্রায় আড়াই হাজার রিয়্যাকশন পড়েছে।