বৃহস্পতিবার

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৯ আশ্বিন, ১৪৩৩

আগুন-বোমাবাজি করা ব্যক্তিরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৪০

শেয়ার

আগুন-বোমাবাজি করা ব্যক্তিরা স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু: রিজভী
ছবি সংগৃহীত

নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পরিকল্পিত সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি বের হয়। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

আগুন ও বোমাবাজির বিরুদ্ধে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর

সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেন, যারা সন্ত্রাসী, আগুন লাগাচ্ছে ও বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের শত্রু। তিনি সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে সবাইকে সজাগ ও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।

রিজভী বলেন, পরিকল্পিত এসব ঘটনার বিষয়ে পত্রিকায় বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা আসার কথা এসেছে। ওই টেলিফোন নম্বরটি কার এবং কে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছে, তা জানতে চান তিনি। তাঁর দাবি, নম্বরটি পার্শ্ববর্তী দেশের। এ ঘটনায় ষড়যন্ত্রের গভীরতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় দেশের রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে জ্বালানি ও গ্যাস সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলছেন বলেও উল্লেখ করেন রিজভী।

তিনি বলেন, গ্যাস সহজলভ্য হলে এবং জ্বালানি তেলের জাহাজ আসা শুরু করলে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত কোনো সরকার জনগণকে কষ্ট দিতে চায় না বা চায়নি। ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধ শুরু হয়েছে। অনেক আগেই জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কথা থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

রিজভী বলেন, তারা জাতীয় স্বার্থের সরকার, জনগণের পক্ষের সরকার এবং দেশের স্বাধীনতার পক্ষের সরকার। তিনি এ সরকারকে তারেক রহমানের সরকার হিসেবে উল্লেখ করেন।

নিষিদ্ধ সংগঠনের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এ্যানির

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তারা আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য ও ফ্যাসিস্ট ভূমিকা দেখেছেন। আওয়ামী লীগ বর্তমানে বাংলাদেশে সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ এবং দলটির দুর্নীতি ও দুঃশাসনও তারা দেখেছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ্যানি বলেন, তারা দেশের জন্য কাজ ও লড়াই করছেন এবং উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি পরিকল্পনা নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি রাজপথের কর্মকাণ্ডও ঠিক রেখে তাদের লড়াই ও সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, কিছুদিন ধরে ওই নিষিদ্ধ সংগঠন বিভিন্নভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে আরেকটি ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ৫ আগস্ট তারা পালিয়েছে এবং দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে দাবি করেন এ্যানি। দেশের ভেতরেও অনেকে আরেকটি অপশক্তির সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

এ্যানির ভাষ্য, দুইটি অপশক্তির বিরুদ্ধে তাদের লড়াই-সংগ্রাম চলছে।

বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগ বকুলের

বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, তারেক রহমান বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সচল করে নতুন বাংলায় যাওয়ার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এ সময় আট মাসের সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য একটি মহল এবং দেশের ভেতরে থাকা একটি চক্র বাংলাদেশের উন্নয়ন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বকুল বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্নভাবে বাসে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে উন্নয়ন ব্যাহত করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি বলেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাতীয়তাবাদী দল ও বিভিন্ন অঙ্গসংগঠন গত ১৭ বছরে বিভিন্ন চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বর্তমান অবস্থানে এসেছে। এ দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন এবং গুম হয়েছেন। দেশের স্বার্থে তারা কখনো পিছু হটেননি এবং পিছু হটতে জানেনও না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বকুল আরও বলেন, ক্রান্তিকাল ও দুঃসময়ে বিএনপি, এর অঙ্গসংগঠন এবং নেতাকর্মীরা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। জনগণ সুযোগ পেয়ে বিএনপিকে ভোট দিয়ে দেশ গঠন ও দেশ রক্ষার সুযোগ দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নিষিদ্ধ সংগঠনের পুনর্বাসন ঠেকানোর ঘোষণা রাকিবের

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, বাংলাদেশে ফ্যাসিস্টদের কোনো আস্তানা রাখতে না দেওয়ার পাশাপাশি যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের পুনর্বাসন করতে চায়, তাদেরও সরাসরি প্রতিহত করার প্রতিজ্ঞা করেছেন তারা। কোনো কালচারাল ফ্যাসিস্টকে বাংলাদেশে আস্তানা করতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

বিরোধী দলের উদ্দেশে রাকিব বলেন, ১৯৯৬ সালের ভূমিকায় অবতীর্ণ না হতে। আওয়ামী লীগের বিষয়ে বিরোধী দলের ভূমিকা নিয়ে তারা সংশয় প্রকাশ করছেন বলেও জানান তিনি। তাঁর দাবি, এ ক্ষেত্রে ১৯৯৬ ও ১৯৮৬ সালের ভূমিকা পালন করা হচ্ছে। তিনি সংশোধনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, তা না হলে ছাত্র-জনতা প্রতিহত করবে।

সমাবেশে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।