বুধবার

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৮ আশ্বিন, ১৪৩৩

আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, মানুষের বিবেক জাগানো জরুরি: ডা. ডোনার

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৭

শেয়ার

আইন প্রণয়নই যথেষ্ট নয়, মানুষের বিবেক জাগানো জরুরি: ডা. ডোনার
ছবি সংগৃহীত

স্বাস্থ্যসেবা খাতে শুধু আইন প্রণয়ন করলেই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না, মানুষের বিবেক ও মন-মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বিএমএ ভবনের শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন সভাকক্ষে স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০২৬ প্রণয়ন বিষয়ক গোলটেবিল বৈঠক ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, চিকিৎসক ও রোগী উভয় পক্ষের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। চিকিৎসকের নামে চিকিৎসা দেওয়া অযোগ্য ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা, চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিচার নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালু করাও জরুরি।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের কিছু ভুল বা কর্তব্যে অবহেলার জন্য জবাবদিহি থাকা দরকার। একই সঙ্গে যারা চিকিৎসক নন, অথচ চিকিৎসকের নামে বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করছেন, তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

অল্প সময়ের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকে চিকিৎসা করছেন উল্লেখ করে ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বুঝতে পারেন না যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকৃত চিকিৎসক নন। ফলে তাদের কাছ থেকে ভুল চিকিৎসা পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়টি আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

চিকিৎসকদের পেশাগত অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন ডা. ডোনার। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগের বিচার নিশ্চিত করতে আইন পরিবর্তনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

স্বাস্থ্যসেবায় কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দেশে এমন ব্যবস্থা না থাকায় একজন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী দেখতে হচ্ছে। অনেক চিকিৎসককে প্রতিদিন ১০০ জন পর্যন্ত রোগী দেখতে হয়। এতে রোগীকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া ও যথাযথ কাউন্সেলিং করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ডা. ডোনার বলেন, কোনো রোগীর অবস্থা গুরুতর হলে কিংবা সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকলে চিকিৎসার পাশাপাশি রোগী ও তার স্বজনদের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। এ জন্য হাসপাতালে কাউন্সেলর রাখার পরামর্শ দেন তিনি।

তিনি বলেন, রোগীর চিকিৎসা, ওষুধ ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে রোগী বা স্বজন কোনো প্রশ্ন করলে তার উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিদেশে রোগীরা ওষুধ সম্পর্কে জানতে চাইলে তাদের তা ব্যাখ্যা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থা বাংলাদেশেও থাকা প্রয়োজন।

ডা. ডোনার বলেন, রেফারেল ব্যবস্থা চালু হলে চিকিৎসকদের ওপর অতিরিক্ত রোগীর চাপ কমবে।

সমাজের পরিবর্তিত মূল্যবোধের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, আগে সমাজে কেউ অন্যায় করলে আশপাশের মানুষও তার প্রতিবাদ করতেন। এখন অনেক ক্ষেত্রে অন্যায়কারীর পক্ষ নেওয়া হয়। রিকশাচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আচরণেও এ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে।

তিনি বলেন, এ পরিবর্তন শুধু চিকিৎসকদের মধ্যে নয়, সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে। মুদি দোকান থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও অসহিষ্ণুতা বাড়ছে। গত ১৭-১৮ বছরে এ ধরনের সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে এবং তা আরও বিস্তৃত হচ্ছে।

ডা. ডোনার বলেন, আইন করলেই হবে না। মানুষের মধ্যে বিবেক জাগ্রত না হলে কোনো আইনই কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনতে পারবে না। আইন সম্পর্কে মানুষ জানলেও অন্তর থেকে দায়িত্ববোধ ও বিবেকের পরিবর্তন না হলে অন্যায় বন্ধ করা কঠিন।

করোনা ভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সারা বিশ্বে যখন করোনায় মানুষ মারা যাচ্ছিল, তখন বাংলাদেশের চিকিৎসকেরা চিকিৎসাসেবা দিয়েছেন ও দায়িত্ব পালন করেছেন। সে সময় চিকিৎসকেরা প্রশংসিতও হয়েছেন।

তিনি বলেন, চিকিৎসকদের প্রতি মানুষের সম্মান ও আস্থা ফিরিয়ে আনা যেমন প্রয়োজন, তেমনি চিকিৎসকদেরও নিজেদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।

ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু এমপি, ডা. ইকরামুল বারী টিপু এমপি, ডা. আবু মনসুর সাখাওয়াত হাসান জীবন এমপি, অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এমপি, ডা. মাহমুদা মিতু এমপি ও ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা এমপি বক্তব্য দেন।

এ সময় অন্যদের মধ্যে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বক্তব্য দেন।



আরও পড়ুন: