রাজধানীর দক্ষিণখানের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড। ব্যস্ততা আর জনজীবনের চেনা ছন্দে মুখর একটি এলাকা। অথচ সেই চেনা ছন্দেই যেন এখন ভাটা পড়েছে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের পরস্পরের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আর অন্তর্কোন্দলে। রাজনৈতিক কর্মসূচির ব্যস্ততার আড়ালে যেন ক্রমেই ঘনীভূত হচ্ছে বিরোধের মেঘ।
হামলার অভিযোগ
জানা যায়, গত রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে দক্ষিণখানের ফায়দাবাদের চৌওয়ারীরটেক এলাকায় বিএনপির এক গ্রুপের সঙ্গে অপর আরেক গ্রুপের বিরোধকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলার চেষ্টা, ভয়ভীতি ও হুমকি-ধমকির অভিযোগ ওঠে। আর এ ঘটনাকে ঘিরেই সরগরম হয়ে ওঠে দক্ষিণখানের এই ওয়ার্ড।
অভিযোগ রয়েছে, দলীয় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল আমিন সরকার তার বিরুদ্ধে করা ফেসবুকে একটি পোস্টের বিষয়কে সামনে এনে, বিএনপির স্থানীয় অপর আরেক নেতা ফখরুল ইসলামের দোকানে হামলা চালায়।
জানা যায়, হামলার পূর্বে আল আমিন সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের লাইভে এসে, তার বিরুদ্ধে করা পোস্টের কারণে, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের গালিগালাজসহ বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন।
আর লাইভের ঠিক পরদিনই, ফখরুল ইসলামের দোকানে হামলা চালানো হয়। ফলে, ফেসবুক লাইভে দেয়া সেই হুমকি পরোক্ষভাবে তাদেরকেই দেয়া হয়েছে বলে মনে করছে ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে দক্ষিণখান থানায় ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আল আমিন সরকার এবং মাইন সরকার, রাফি সরকারসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ থেকে ৫০ জনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয় বলে জানা গেছে।
পাল্টা অভিযোগ ও অস্বীকৃতি
অপরদিকে, স্থানীয় বিএনপির অন্যান্য নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আল আমিন সরকার দলীয় প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করেছেন। এমনকি বিভিন্ন সময় তার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগও তুলেছে তারা।
এছাড়াও বিভিন্ন সময় দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায়, আল আমিনের দলীয় পদ স্থগিত করা হয়েছে বলেও তথ্য রয়েছে।
তবে, অভিযুক্ত আল আমিন সরকার এসব বিষয় অস্বীকার করেন। তার দাবি, দলীয় কর্মসূচি হিসেবে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় ব্যবসায়ী ফখরুল ইসলাম তাকে কটুক্তি করায়, তিনি সেখানে গিয়ে অত্যন্ত নম্র ভাষাতেই ফখরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেছেন।
একইভাবে, মাদকের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগের বিষয়টি সামনে আনলে, তিনি এই অভিযোগ আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ও প্রোপাগান্ডা বলে দাবি করেন।
এদিকে, আল আমিন সরকারের অপর এক সহযোগী ও দক্ষিণখান ৪৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, শহীদ সরকারের বিরুদ্ধেও নানা সময়ে উঠেছে চাঁদাবাজির অভিযোগ।
এমপি ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে নিজেদের মধ্যে একটি সাধারণ বিরোধ বলে মন্তব্য করেছেন, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। সেইসাথে, বিষয়টির সুরাহা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মাদক নিয়ে আল আমিন সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এখানে যারাই জড়িত থাকুক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সে যাবে।
দক্ষিণখান থানায় ভুক্তভোগীদের করা অভিযোগের বিষয়ে, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফাহিম উদ্দিন বলেন, বিষয়টি থানা আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারের উদ্যোগে সুরাহা করা হয়েছে।
তবে, দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদার অসুস্থতার দোহাই দিয়ে, এ নিয়ে করা প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টিকে শুধু নিজেদের মধ্যে সাধারণ বিরোধ কিংবা সাময়িক ভুল-বোঝাবুঝি হিসেবে দেখলে এর গভীরতা আড়ালেই থেকে যাবে। রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব বিস্তার, হুমকি-ধমকি থেকে শুরু করে, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার অভিযোগ—সব মিলিয়ে দক্ষিণখানের ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতিতে যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
আরও পড়ুন:







