শনিবার

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৪ আশ্বিন, ১৪৩৩

সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারনা না করলে লং মার্চ করার প্রয়োজন হতোনা: ডা: শফিকুর রহমান

আবুল কালাম আজাদ বগুড়া

প্রকাশিত: ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:০৮

শেয়ার

সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারনা না করলে লং মার্চ করার প্রয়োজন হতোনা: ডা: শফিকুর রহমান
ছবি: বাংলা এডিশন

বিরোধী জোটের লং মার্চ কর্মসূচী নিয়ে সরকারি দলের সমালোচনার জবাবে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা কেন লংমার্চের ডাক দিলাম এটা নিয়ে সরকারি দলের ঘুম হারাম। তারা বলছে বিরোধী দল এতো তাড়াতাড়ি লং মার্চ করে কেন? আমরা সরকারকে জিজ্ঞেস করতে চাই- ক্ষমতায় আসার আগেই জনগণকে অপমান করলেন কেন? ৭০ ভাগ জনগণ ভোট দিলো হ্যাঁ’র পক্ষে। আপনারা যে ভোট চেয়েছিলেন, আমরাও সেই ভোট চেয়েছিলাম। আমরা আমাদের জায়গায় আছি আপনারা জায়গা পরিবর্তন করলেন কেন? আপনারা যদি জনগণের সঙ্গে প্রতারনা না করতেন আজকে আমাদের লং মার্চ করার প্রয়োজন হতোনা।

সরকারকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন, সংসদের ৩টি অধিবেশন চলে গেল। আপনারা জুলাই শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যে সরকার গঠন করেছেন, সেই জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেন নাই কেন? আপনারা বলেচিলেন দূর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন। বলেছিলেন এক কোটি মানুষকে চাকরি দিবেন। অথচ আপনারা এক কোটি মানুষের হাতে চাঁদাবাজীর চাবি তুলে দিয়েছেন। দূর্নীতির রেট বাড়িয়ে দিয়েছেন। আমিরে জামায়াত বলেন, এখন যিনি রাস্ট্রপতি তিনি বিএনপির মহাসচিব থাকালে বলেছিলেন, “গ্যাস দে বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।” এখন আমাদের স্লোগন হলো- “গ্যাস দে বিদ্যুৎ দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।” আমরা নতুন কোন স্লোগান দিচ্ছিনা। মির্জা ফখরুল ইসলাম যে স্লোগান দিয়েছিলেন আমরা সেটাই দিচ্ছি। বিরোধী দলীয় নেতা সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আপনারা আমাদের সন্তানদের চাকরির অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন।

দলীয় ক্যাডার-সন্ত্রাসীদেরকে জাগায়, জাগায় বসানোর জন্য রিটার্নের মার্কের ডাবল করেছেন ভাইভার মার্ক। আমাদের সন্তানরা চাকরির অধিকারি ফিরিয়ে আনার জন্য জীবন দিয়েছে। প্রয়োজনে আমরা আমাদের সন্তানদের জন্য আরেকবার জীবন দিতে প্রস্তুত। তবু এই বৈষম্য আমরা বরদাশত করবোনা। তিনি বলেন, আপনারা জাগায় জাগায় প্রশাসক বসিয়ে মানুষকে শোষণ করছেন, আমরা বসে বসে আঙ্গুল চুষবো? এর জন্যই আমাদের লং মার্চ। আমাদের কৃষক বন্ধু সার পায় না। চৌদ্দ’শ টাকার সার কিনতে হয় ২২’শ টাকায় কিনতে হয়। এর জন্যই আমাদের লং মার্চ। ভাত দেওয়ার মুরোদ নাই কিল মারার গোসাই। বিদ্যুৎ দিতে পারনে না আবার ডাবল বিদ্যুৎ বিল দেন আপনারা। বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেন দেশ কোন লোড শেডিং নাই। বিদ্যুতের কোন ঘাটতি নাই। গ্রামে বিদ্যুরে তার একটু লম্বা এজন্য বিদ্যুৎ দেওয়া যায় না।

এরকম একজন অপদার্থ লোককে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বানিয়ে রাখা হয়েছে। বেগম জিয়ার আমলে প্রতিমন্ত্রী ছিলেন, ব্যর্থতার কারনে তাকে সরিয়ে দিয়েছিলেন। তাঁর সন্তান এসে তাকে প্রমোশন দিয়ে ফুল মন্ত্রী বানিয়েছেন। তাও আবার জাতির ঘাড়ে বসে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে। আমিরে জামায়াত বলেন, এবারের লং মার্চ হয়েছে ঢাকা থেকে রংপুর। আগামীর রং মার্চ হবে পঞ্চগড় থেকে ঢাকায়। সেই লং মার্চের জন্য প্রস্তুত থাকার জন্য তিনি জনগণের প্রতি উদাত্ব আহ্বান জানান। ঢাকা থেকে আসার পথে রাস্তায় শিশুরা চিৎকার বলে বলছে দাদু এক দফা এক দফা। আমরা সরকারের কাছে ৮দফা দাবী জানিয়েছি। এই ৮ দফা কোন দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নয়। যদি ৮ দফা না মানলে এক দফার জন্য প্রস্তুত থাকুন। যদি এক দফার ডাক দিতে হয় তাহলে সবাই মিলে জনগণের বিজয় ছিনিয়ে আনবো ইনশাআল্লাহ। বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ঢাকা থেকে আসার পথে রাস্তায় হাজার হাজার মা বোন রাজপথে নেমে আমাদের দাবীর সাথে একাত্মতা ঘোষনা করেছে। চব্বিশের আন্দোলনে মা-বোনেরা রাজপথে নেমেছিল, সেই আন্দোলন সফল হয়েছে। ছাব্বিশে নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য রাজপথে নেমে এসেছে ইনশাআল্লাহ এই আন্দোলনও সফল হবে।

তিনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকার নিখোঁজ সন্তানের নির্মম হত্যাকান্ডের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে দেশের আইন-শৃংখলা পরিস্থিতির অবনতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং সন্তানদের নিরাপত্তার জোর দাবী জানান। স্বরাস্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, আমাদের স্বরাস্ট্রমন্ত্রী হলেন সর্বমন্ত্রী। তিনি সবকিছুই করেন কিন্তু নিজের মন্ত্রণালয়ের খবর রাখতে পারেন না। সর্ষের মধ্যে থাকা ভূত জনগণের শান্তি কেড়ে নিয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রয়োজনে জনগণের জন্য জীবন দিবো, আমাদের দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবোনা।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বগুড়া মহানগর শাখার আমির অধ্যক্ষ আবিদুর রহমান সোহেলের সভাপতিত্বে শহরতলীর মাটিডালি বিমান মোড়ে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য রাখেন এনসিপির আহ্বায় নাহিদ ইসলাম এমপি, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমেদ, নেজামে ইসলাম পার্টির সিনিয়র নায়েবে আমির আল্লামা আব্দুল মাজেদ আতহারী, এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন এমপি, এনসিপির মূখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রিয় নির্বাহী সদস্য অধ্যক্ষ শাহাবুদ্দিন, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, কেন্দ্রিয় কর্মপরিষদ সদস্য বগুড়া অঞ্চলের সহকারি পরিচালক অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিল্লাল হোসেন মিয়াজি।

বাংলাদেশ লেবার পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ফেরদাউস আলম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ হোসাইন আকন্দ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) সহ-সম্পাদক রেজাউল করিম, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহসভাপতি গোলাম রব্বানী, বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক সরকার, বগুড়া মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি আসম আব্দুল মালেক, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মানসুরুর রহমান, এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এম এস এ মাহমুদ, এনসিপি রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মোবাশ্বের আলী, এলডিপি বগুড়া জেলা সভাপতি এ্যাড. মোখলেছুর রহমান, বিডিপির জেলা সভাপতি মাহফুজুল হক মোল্লা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের জেলা সেক্রেটারি মুফতি মামুন রাহমানী, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক গোলাম রহমান রয়েল, সেক্রেটারি এস এ জাহিদ, বিডিপির জেলা সেক্রেটারি এ্যাড. শাফিকুর রহমান শাফি, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব সুলতান মাহমুদ, এলডিপির জেলা সেক্রেটারি আনিছুর রহমান, খেলাফত মজলিশের জেলা সহসভাপতি আব্দুর রহমান মোল্লা, সহসেক্রেটারি তৌহিদুল ইসলাম, জামায়াত নেতা রফিকুল আলম, এ্যাড. আল-আমিন, মঞ্জুরুল ইসলাম রাজু, মিজানুর রহমান, এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. এনামুল হক বাবু বিশ্বাস, যুগ্ম-সদস্য সচিব এ্যাড. ইজাজ আল ওয়াসী জ্বীম, আব্দুস বুর সুমন, জামায়াত নেতা ইকবাল হোসেন, নূর মোহাম্মদ আবু তাহের, আজগর আলী. নুরুল ইসলাম আকন্দ, এ্যাড. শাহীন মিয়া, হেদাইতুল ইসলাম, আব্দুস ছালাম তুহিন, আব্দুল হামিদ বেগ, বগুড়া মহানগর শিবির সভাপতি শফিকুল ইসলাম, জেলা পূর্ব সভাপতি শাহরিয়ার বিপ্লব, পশ্চিম জেলা সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রশক্তির জেলা সভাপতি শাহরিয়ার জুহিন প্রমূখ।