বৃহস্পতিবার

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২ আশ্বিন, ১৪৩৩

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি ১১ দলের আহ্বান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৬:১৩

শেয়ার

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি ১১ দলের আহ্বান
ছবি: সংগৃহীত

সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে না যেতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতারা বলেছেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ক্ষমতা দেখাতে গিয়েই অতীতে অনেকে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী চরিত্র অর্জন করেছেন। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকারকে সেই পথ থেকে ফিরে আসতে হবে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে এ আহ্বান জানানো হয়। বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন।

১৯ সেপ্টেম্বর সাত দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের প্রস্তুতি ছিল বৈঠকের প্রধান আলোচ্য। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়েও আলোচনা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, পৃথিবীর কোনো ইতিহাসে গণভোটের রায় বাতিলের ঘটনা নেই। কিন্তু গণতন্ত্রের নামে ক্ষমতায় যাওয়া সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে ৭০ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধূলিস্যাৎ করেছে।

তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে বলে জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাওয়া উচিত নয়।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন-সুন্নাহর আইন পরিবর্তন করে হেবা আইনে হস্তক্ষেপ করা হয়েছে। ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায়ও পদদলিত করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দীর্ঘদিনের আইন পরিবর্তন করে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের নির্বাচনে অযোগ্য করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘এখান থেকে আমরা সরকারকে ফিরে আসতে বলব।’

তিনি জানান, বেলা ১১টায় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। লংমার্চের প্রস্তুতির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও রাজনৈতিক সংকট নিয়ে সেখানে আলোচনা হয়।

গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত দফা দাবি সামনে রেখে আন্দোলন আরো গতিশীল করা এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। সরকার সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না করে গণভোটকে উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধনের যে প্রক্রিয়া নিয়েছে, ১১ দলীয় ঐক্য তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এ প্রক্রিয়ার বিশেষ কমিটির একতরফা কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগেরও বিরোধিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।