১৭ বছরের স্বৈরতন্ত্র, ক্ষমতার দাম্ভিকতা আর দল এবং আমিত্বের রাজত্ব, এখন ইতিহাস। ২৪ আগস্টের পর আওয়ামী স্বৈরাচার শেখ হাসিনা এখন ভারতে; আর প্রথম সারির নেতারা বিলাসবহুল সোফায় গা এলিয়ে বিদেশের এসি রুমে। সেখান থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভেসে আসছে একের পর এক, অরাজকতার অডিও বার্তা আর ফেসবুক পোস্ট।
বিদেশ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের নেতাদের ফাঁকা বুলি
বিদেশের এসি রুমে বসে নেতাদের এই 'ফেসবুকি বিপ্লবের' ডাক শুনে দেশে থাকা কর্মীদের রক্ত যেন চাঙ্গা। কিন্তু সেই রক্ত গরমের চড়া মাশুল দিতে গিয়ে মাঠে যা ঘটছে, তা দেখতে সিনেমার কোনো কমেডি দৃশ্যের চেয়ে কম নয়।
এক সময়ের গগনবিদারী স্লোগান জয় বাংলা। আর পুলিশের সাইরেন বাজতেই সোজা ঠেকেছে নর্দমায়। রাজপথের হুংকার রূপ নিয়েছে দুর্গন্ধযুক্ত ড্রেনে; ভেতরে মুখ লুকিয়ে হাতজোড় করে বাঁচার আকুল আকুতি!
দুইশো টাকার লোভে আ.লীগের মিছিলে এসে কান ধরে তওবা
কিন্তু, প্রতি-বিপ্লব ঘটানোর এত বড় ঝুঁকি কি আর বিনামূল্যে নেয়া যায়? ভোলা থেকে ফরিদপুরে ছুটে আসা এই কর্মীর আসল অনুপ্রেরণা ছিল মাত্র ২০০ টাকা। ধরা পড়ার পর কান ধরে তওবা 'আর জীবনেও মিছিলে আসবে না আ.লীগের।' টাকার লোভে পড়ে এ যেন একদম ফ্রি সার্কাস।
কচুরিপানা ও ডাস্টবিনের রাজনীতি
ঢাকার রূপনগরের দৃশ্যটি আবার আরও এক কাঠি সরেশ। মিছিল শেষে পুলিশের তাড়া খেয়ে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা প্রাণ বাঁচাতে সোজা লাফ দিলেন কচুরিপানার ডোবায়। দূর থেকে দেখে বোঝার উপায় নেই তারা রাজনৈতিক কর্মী, নাকি নতুন প্রজাতির কোনো জলজ প্রাণী জলকেলি করছে!
নোয়াখালীতে দেখা গেল আরেক দৃশ্য। বিজয়া দশমীর প্রতিমা বিসর্জনের মতো করে শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতি নদীতে ভাসিয়ে দিচ্ছে সাধারণ জনতা। যাদের ছবি একসময় পূজা দেয়া হতো, তাদেরই ভাসিয়ে দেয়া হচ্ছে পানিতে।
আর ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশানে মিছিল শুরু হতে না হতেই শেষ। তবে, আসল আকর্ষণ স্লোগান ছিল না, ছিল এক নেত্রীর দৌড়। তার দৌড়ের গতি দেখে মনে হচ্ছিল, প্যারিস অলিম্পিকের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে পাঠালে তিনি নির্ঘাত সোনা জিতে ফিরতেন।
মাঠে সাধারণ কর্মীদের চরম মাশুল
বিদেশের নিরাপদ এসি রুমে বসে নেতাদের এই হুটহাট অডিও বার্তা আর ফেসবুকি ফরমায়েশি মূলত দেশে থাকা কর্মীদের জীবনকেই পুরোপুরি ছারখার করে দিচ্ছে। অনেকেই জেলে যাচ্ছেন। কেউ কেউ প্রতিহতের মুখে পড়ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আরাম-আয়েশে থেকে নিরাপদ দূরত্বে বসে নেতারা যখন ভার্চুয়াল হুংকার ছাড়েন, তার মাশুল গুণতে গিয়ে তৃণমূল কর্মীদের নর্দমা আর কচুরিপানায় ডুব সাঁতার দিতে হয়। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে কর্মীদের এভাবে বারবার বিপদে ঠেলে দেয়ার এই হাস্যকর নাটক, রাজনীতিতে এখন এক করুণ প্রহসন। সেইসঙ্গে, অপরাধ উসকে দেয়ার অন্যতম হাতিয়ার, যা দমন করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
আরও পড়ুন:







