জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবল তৈরির লক্ষ্যে প্রস্তাবিত ‘স্মার্ট-গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং টেকনোলজি ওয়ার্কফোর্স ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট’-এর সম্ভাব্যতা যাচাই নিয়ে কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কইকা) ও বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির মধ্যে মতবিনিময় হয়েছে।
সোমবার বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিতে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের কোরিয়া-বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারে কার্যক্রম পরিচালনা করছে কইকা। প্রকল্পের আওতায় শিপ রিসাইক্লিং খাতের প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের সম্ভাব্য ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
সভায় বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পের বর্তমান চিত্র, সম্ভাবনা এবং এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড অফশোর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস. এম. রাশিদুল হাসান। তিনি এ শিল্পের উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন দিক উপস্থাপন করেন।
পরবর্তীতে কইকা প্রতিনিধিরা প্রস্তাবিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কাঠামো ও সম্ভাব্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে গ্রিন শিপ রিসাইক্লিং ও রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট, শিপ মেশিনারি রক্ষণাবেক্ষণ, শিল্প স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, পরিবেশ প্রযুক্তি এবং ডিজিটাল ওয়েল্ডিংয়ের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।
মতবিনিময়ে বাংলাদেশের শিপ রিসাইক্লিং শিল্পকে আন্তর্জাতিক মানের, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পর্যায়ে উন্নীত করতে আধুনিক প্রযুক্তি এবং দক্ষ জনশক্তির গুরুত্ব উঠে আসে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি ও কইকার মধ্যে শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহযোগিতার সম্ভাব্য ক্ষেত্র নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শিপ রিসাইক্লিং খাতে প্রয়োজনীয় দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সুরক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে এ খাতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।
মতবিনিময় সভায় সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন কমডোর মো. বেঞ্জির মাহমুদ।
আরও পড়ুন:







