নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগ নেত্রী প্রান্তি ভট্টাচার্যের সাথে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি রাজীব ধর তমালের জাঁকজমকপূর্ণ বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। বিয়েতে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে দলটির স্থানীয় ও তৃণমূল কর্মীদের মাঝে তীব্র আলোচনা-সমালোচনা।
বিয়ে সম্পন্ন
সোমবার (২৪ আগস্ট) রাজধানীর গেন্ডারিয়ার একটি সামাজিক অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ওই বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে একই মহানগর ছাত্রলীগ নেতা তন্ময় দেবনাথের সাথে, কোর্ট ম্যারেজের মাধ্যমে ওই নেত্রীর প্রথম বিয়ে হয় এবং কিছুদিন পর তাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি
বিতর্কিত এই বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগ দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক বিশেষ সহকারী ও সাবেক মুখ্য সচিব বিজন কান্তি সরকার, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সুকোমল বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায়সহ আরও অনেকে। যা নিয়ে দলটির স্থানীয় পর্যায়ে নানা নানা বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া
ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে চিহ্নিত ও বিতর্কিত একজন ছাত্রলীগ নেত্রীর এমন অনুষ্ঠানে বিএনপির একঝাঁক শীর্ষ নেতার উপস্থিতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। তাদের দাবি, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের নেত্রীর বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের উপস্থিতি চরম ক্ষোভ ও হতাশার জন্ম দিয়েছে।
প্রান্তি ভট্টাচার্যের পরিচয়
প্রান্তি ভট্টাচার্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আল নাহিয়ান খান জয় ও লেখক ভট্টাচার্যের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম ৩ নম্বর পাঁচলাইশ ওয়ার্ড যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রাম অঞ্চলের অন্যতম শহীদ ওয়াসীম হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবেও তার নাম রয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর রাজনীতিতে প্রান্তি, ফ্যাসিস্ট সরকারের সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও পলাতক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও, নগর যুবলীগ নেতা দেবাশীষ পাল দেবুর ঘনিষ্ঠ কর্মী হিসেবেও পরিচিতি রয়েছে প্রান্তির। তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের তৎকালীন শীর্ষ নেতাদের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জোর খাটিয়ে, অনেককে বঞ্চিত করে নিজের পদ বাগিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউমার্কেট, জিইসি ও মুরাদপুর এলাকায় আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় তিনি সন্ত্রাসী ভূমিকা রাখেন বলে জানা গেছে। আওয়ামী সরকারের পতনের পর, পোর্ট সিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়ে, মুচলেকা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়তে বাধ্য হন ফ্যাসিবাদের দোসরখ্যাত এই নেত্রী।
তৃণমূলের অসন্তোষ
তবে, রক্তক্ষয়ী জুলাই আন্দোলনে অংশ নেয়া শহীদদের রক্ত শুকানোর আগেই, শিক্ষার্থীদের নির্যাতনকারী নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনো নেত্রীর বিবাহ অনুষ্ঠানে বিএনপির শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় নেতাদের হাসিমুখে অংশগ্রহণ, দলটির তৃণমূলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের মনঃক্ষুণ্ণ করেছে।
এসব বিষয় নিয়ে, বর-কনে উভয়ের সাথেই যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও, পাওয়া যায়নি কাউকে।
তৃণমূলের নেতাকর্মীদের ত্যাগ মূল্যায়ন করে, ভবিষ্যতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট যেকোনো বিষয়ে আরো সতর্ক অবস্থান নিবে, এমন প্রত্যাশা চট্টগ্রামের স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের।
আরও পড়ুন:







