অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বহাল রেখে তা আইনে পরিণত করার দাবি জানিয়েছেন ১১ দলীয় জোটের নেতারা। একই সঙ্গে গুমের অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব গুমের সঙ্গে অভিযুক্ত কোনো সংস্থার কাছে না দিয়ে আগের মতো জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাতে দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় সংসদের সামনে আয়োজিত সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান ১১ দলের নেতারা।
এ সময় সংসদ অধিবেশন চলাকালীন তাদের সঙ্গে সংহতি জানাতে জাতীয় সংসদ থেকে বেরিয়ে আসেন সংসদ সদস্য ও এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কামার হোসেন, নুরুল ইসলাম বুলবুল, সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম, নুসরাত তাবাসসুম ও ব্যারিস্টার আরমান।
গুমের শিকার ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বলেন, আমার সহকর্মীদের মিশন একটাই এই বাংলার মাটিতে আর যেন কারও অধিকার ক্ষুণ্ন না হয়। আর যেন কোনোদিন গুম ফিরে আসতে না পারে। বিপ্লব-পরবর্তী এই সংসদের কাজ ছিল এমন আইন প্রণয়ন করা, যাতে কেউ মানুষের অধিকার খর্ব করার আগে ১০ বার চিন্তা করে।
সংসদ সদস্য আতিক মুজাহিদ বলেন, মিরাজ শেখকে গুম করার অভিযোগের বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করতে হবে। যে বাহিনীর বিরুদ্ধে গুমের অভিযোগ, সেই বাহিনীকে দিয়ে তদন্ত করা যাবে না এটাই আজকের বক্তব্যের মূল বিষয়। বাংলাদেশের মানুষের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এনসিপি সবসময় মানবাধিকারের পক্ষে রয়েছে এবং ১১ দলের আন্দোলনের সঙ্গে আছে।
এ সময় আগত সংসদ সদস্যদের সঙ্গে একটি প্রতিনিধি দল আগের গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বহাল রাখার দাবিতে স্মারকলিপি দিতে সংসদ ভবনে প্রবেশ করে। এর আগে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু করেন ১১ দলের নেতাকর্মীরা। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তারা জাতীয় সংসদের সামনে পৌঁছান।
সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, আমরা আজ স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বলতে চাই, গুমের জন্য যে অধ্যাদেশ জারি হয়েছিল, সেটি বাতিল না করে গুম প্রতিরোধের আইন বহাল রাখতে হবে। যারা খুন করবে, তাদের হাতে কখনো প্রাণ তো নিরাপদ হতে পারে না।
সমাবেশে প্রতিরোধ কমিটির জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসিনুর রহমান, ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির, ১১ দলীয় সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান আজাদ, ১১ দলীয় শীর্ষ নেতা ডা. মোস্তফা রশীদ আহমেদ ইরান, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দীনসহ খেলাফত আন্দোলন, বিডিপি, এলডিপি ও খেলাফতের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন:







