শনিবার

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৪ ভাদ্র, ১৪৩৩

ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:১৫

শেয়ার

ভুল বোঝাবুঝির জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত
ছবি সংগৃহীত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন।

পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে দেওয়া তার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও সেখানকার আলেমদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়া হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের একটি কনসার্ট বন্ধ হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ঘটনাটি গণমাধ্যমে যেভাবে এসেছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে ভিন্ন ছিল। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটলে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেন। এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির পর কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ঘটনাপ্রবাহ থেকে তার কাছে স্পষ্ট হয়েছে যে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি, বরং শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন। এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়।

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, স্থান নিয়ে তার তথ্যগত ত্রুটি হয়েছিল। সিলেটের জায়গায় তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন। এ ভুলের কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, সংসদে মূল ঘটনা ও গণমাধ্যমের উপস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলা তার উচিত ছিল। তবে সম্পূরক প্রশ্নে সময় সীমাবদ্ধতার কারণে বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।

ফেসবুক পোস্টে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নীতি ও সিদ্ধান্ত নিতে চান। তার মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত হবে এবং কেউ নিজের মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না।

তিনি বলেন, দেশে বিতর্ক ও মতের পার্থক্য থাকবে, তবে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী অন্যের ওপর জোর খাটিয়ে নিজের মত চাপিয়ে দিতে পারবে না। এমন পরিস্থিতি প্রতিহত করা এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।

সবশেষে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ সবার এবং এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসবসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক আয়োজন থাকবে। মানুষের পছন্দ অনুযায়ী এসব আয়োজনে অংশ নেওয়ার বা না নেওয়ার স্বাধীনতা থাকবে এবং সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, যেন কেউ অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

তিনি বলেন, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণি নির্বিশেষে সবার অধিকার নিশ্চিত করে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান জানিয়ে একটি সর্বজনীন সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।