শনিবার

২৯ আগস্ট, ২০২৬ ১৩ ভাদ্র, ১৪৩৩

আ. লীগের অপরাধকে যেকারণে 'লঘু' বললেন রাশেদ খান

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:১৮

আপডেট: ২৮ আগস্ট, ২০২৬ ২৩:২১

শেয়ার

আ. লীগের অপরাধকে যেকারণে 'লঘু' বললেন রাশেদ খান
ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পেজে জামায়াত নেতা আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী ও সাবেক গণ অধিকার পরিষদের নেতা মো. রাশেদ খান। পোস্টের কারণে বিতর্কের মুখে পড়েছেন রাশেদ।

তিনি দাবি করেন, ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের চেয়ে ৭১-এ বেশি রক্ত ঝরিয়েছে জামায়াত, আর সেই তুলনায় আওয়ামী লীগের অপরাধ লঘুই বলা যায়। একইসাথে জামায়াত-এনসিপি ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে সাথে নিয়ে আন্দোলন করে, দেশকে অশান্ত করবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে প্রতিক্রিয়ার ঝড়

পোস্টটি করার পরপরই ফেসবুকের প্রতিক্রিয়ায় নেমে আসে উপহাস আর ক্ষোভের বন্যা। সমর্থন দেয়ার বদলে, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পোস্টটিতে ১ হাজার ৭ শোর বেশি 'হাহা' রিঅ্যাক্ট দিয়ে বিদ্রুপ করেছে ব্যবহারকারীরা। বিপরীতে সমর্থন বা লাইক রিয়াক্ট পড়েছে মাত্র ৮৮৯টি এবং ক্ষোভ প্রকাশ করে 'অ্যাংরি' রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন ৪৪ জন।

আর পোস্টের কমেন্টবক্সেও নেটিজেনরা সরাসরি তার কড়া সমালোচনা করেছে। এদের মধ্যে মো. ফেরদৌস প্রধান নামে এক ফেসবুক ব্যবহারকারী প্রশ্ন তুলেছেন, ধারাবাহিক বিতর্কিত বক্তব্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে সস্তা ভিউ ও আর্থিক সুবিধা নেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না? আন্দোলনের দিনগুলোতে রাশেদের ভূমিকার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মো. নাদিম মাহমুদ লেখেন, সংকটকালে রাজপথে অনুপস্থিত থাকা এসব রাজনৈতিক নেতাদের পক্ষে জনগণের পাশে থাকা সম্ভব নয়। জনগণের রাজনৈতিক সচেতনতার বিষয়টি উল্লেখ করে মো. ফজলুল হক মন্তব্য করেন, সাধারণ মানুষ এখন সতর্ক; তারা আসল ও নকল রাজনৈতিক চরিত্রের পার্থক্য সহজেই অনুধাবন করতে পারে। চাটুকারিতা ও সুবিধাবাদী রাজনীতির তীব্র সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আব্দুল্লাহ আল নোমান। এছাড়া অ্যাডভোকেট সরোয়ার হামিদ পিয়াল ও রিয়াদ হোসেনের মতো অনেকেই তাকে 'সুবিধাবাদী' ও 'ভাড়াটে তোষামোদকারী' আখ্যা দিয়ে তার রাজনৈতিক অবস্থানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

রাশেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

তবে রাশেদের আচরণকে বহুরূপী অ্যাখ্যা দিয়ে সমালোচনা হয় অনেক আগে থেকেই। একসময় তিনি পতিত স্বৈরাচারের স্তুতিতে মশগুল ছিলেন এবং শেখ হাসিনাকে ‘মমতাময়ী মা’ আখ্যা দিয়ে ভক্তির পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন, এমন দাবিতে ক্ষোভ রয়েছে সাধারণ মানুষের।

অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্টের পর ক্ষমতার পাল্লা ভারি হতেই রাতারাতি ভোল পাল্টে ফেলেন এই নেতা। গণঅধিকার পরিষদে সুবিধা করতে না পেরে তড়িঘড়ি করে নোঙর ফেলেন বিএনপির ঘাটে।

সমালোচনা রয়েছে, নতুন দলে আসন পাকাপোক্ত করতে রাশেদের মূল অস্ত্র হয়ে ওঠে মিত্রদের চরিত্র হনন। কখনো জামায়াতে ইসলামীর গায়ে সেঁটে দিয়েছেন ‘জালেম’ তকমা।

এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কিছুদিন আগে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে বিতর্কিত করতে তিনি, ওই বিক্ষোভের পেছনে শিবিরের উসকানি রয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন

আর রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, অন্য দলগুলোকে এই গালাগালি আর বিষোদ্গারের চূড়ান্ত প্রতিদানও তিনি পেয়ে গেছেন হাতেনাতে। এদিকে, রাশেদ খানের মতো কাউকে সরকারের সহযোগী বানানোর সমালোচনা করেছেন, প্রবীণ রাজনীতিক কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ অলি আহমেদ।

এছাড়া, রাশেদের সাবেক সহযোদ্ধারা, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, আর্থিক কেলেঙ্কারী এবং আওয়ামী লীগের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেয়ার বিস্তর অভিযোগ তুলেছে।

সব অঙ্ক মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছে, রাশেদ খানের নিজস্ব কোনো গন্তব্য বা আদর্শ নেই। ক্ষমতার বাতাস যেদিকে বয়, তার পালও সেদিকেই ঘোরে। তার এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিষোদ্গার মূলত ফ্যাসিবাদবিরোধী শক্তিকে দুর্বল করার এক সুপরিকল্পিত ছক। আর তাই, তাকে স্বার্থান্বেষী রাজনৈতিক অ্যাখ্যা দিয়ে, থামানোর তাগিদ দিচ্ছে সচেতন নাগরিকরা।