শনিবার

২২ আগস্ট, ২০২৬ ৭ ভাদ্র, ১৪৩৩

ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জামায়াত পরিস্থিতি হলেও দিচ্ছে না হরতাল

নিউজ ডেস্ক বাংলা এডিশন

প্রকাশিত: ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:২৩

শেয়ার

ইতিহাস সৃষ্টি করেছে জামায়াত পরিস্থিতি হলেও দিচ্ছে না হরতাল
ছবি বাংলা এডিশন

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস মানেই যেন রাজপথ দখলের লড়াই। একসময় বিরোধীদলে থাকলেই সরকারকে চাপে ফেলতে হরতাল আর অবরোধের নামে চলতো জ্বালাও-পোড়াও আর ভাঙচুরের মহোৎসব।

চোখের পলকে ছাই হয়ে যেত রাষ্ট্রীয় ও সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত কোটি কোটি টাকার সম্পদ। এই রাজনৈতিক রেষারেষির সবচেয়ে বড় শিকার হতো খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের জীবন থমকে যেত সীমাহীন দুর্ভোগ আর আতঙ্কে। দশক ধরে চলে আসা সেই ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতিতে আজ এসেছে এক অভাবনীয় পরিবর্তন।

নতুন সরকারের ছয় মাস ও বিরোধীদলের নীরবতা

একটি নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর দেখতে দেখতে পার হয়ে গেছে দীর্ঘ ছয়টি মাস। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, এই সময়ে রাজপথে বিরোধীদলের কোনো উত্তাপ নেই, নেই কোনো হরতালের ডাক। দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যেন জন্ম দিয়েছে এক নতুন রাজনৈতিক শিষ্টাচারের।

প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক, বিরোধীদল কি তবে রাজপথে নামার মতো কোনো ইস্যু পাচ্ছে না? বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। গত কয়েক মাসে দেশের সাধারণ মানুষ বহুমুখী সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারের উদাহরণে, বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। তিন মাস আগের এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মানুষ চাইলেও পাম্প থেকে প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহ করতে পারছিল না। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ভয়াবহ লোডশেডিং এবং বিদ্যুৎ সংকট। নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। থেমে নেই নীরব চাঁদাবাজিও। একটি বিরোধীদলের জন্য সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য এর চেয়ে বড় কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার আর কী হতে পারে?

সংকটের মূল ক্ষত অনুধাবন

অথচ, এত বড় বড় সংকট থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিরোধীদল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির দিকে পা বাড়ায়নি। কারণ, তারা বর্তমান সংকটের পেছনের মূল ক্ষতটি কোথায়, তা গভীরভাবে অনুধাবন করতে পেরেছে। তারা জানে, এই সময়ের তেল সংকট, বিদ্যুৎ ঘাটতি বা চরম অর্থনৈতিক দুরবস্থা, এসব বর্তমান সরকারের একদিনের সৃষ্টি নয়। বরং, বিগত পনেরো বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদী সরকার দেশজুড়ে যে নজিরবিহীন লুটপাট চালিয়েছে, রাষ্ট্রযন্ত্রের প্রতিটি কাঠামোকে যেভাবে সুপরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে গেছে, দেশের এই পরিস্থিতি তারই অবশ্যম্ভাবী পরিণতি।

দেশকে এক প্রকার ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে পালিয়েছে বিগত স্বৈরাচার সরকার। আর সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে নতুন সরকার চেষ্টা করছে খাদের কিনারা থেকে দেশকে টেনে তুলতে। জামায়াতে ইসলামী প্রমাণ করেছে, তারা প্রচলিত সেই ‘বিরোধিতার জন্যই বিরোধিতা’ করার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না।

জ্বালানি সংকটে দায়িত্বশীলতার পরিচয়

প্রায় তিন মাস আগে, যখন দেশে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দেয়, তখন জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, এটি মূলত একটি বৈশ্বিক সংকট এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া পাপের ফল। তারা সাধারণ মানুষের আবেগকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার বদলে, রাষ্ট্রীয় সংকট মোকাবেলায় দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকট থেকে শুরু করে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, প্রতিটি ইস্যুতে সরকার যে সমালোচনা বা জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে, বিষয়টি এমন নয়। জামায়াতে ইসলামীও সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করে যাচ্ছে। তারা রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও করে সরকারকে পতন ঘটানোর হুমকি দিচ্ছে না, বরং সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দিয়ে তা সমাধানের জন্য যৌক্তিক সময় ও পরামর্শ দিচ্ছে। তারা সরকারকে সতর্ক করছে, বার্তা দিচ্ছে, এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে স্থায়ী পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদলের ভূমিকা

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদলের মূল কাজই হলো সরকারের আয়না হিসেবে কাজ করা এবং সংকট উত্তরণে পথ দেখানো। জামায়াত ঠিক সেই কাজটিই অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে পালন করে যাচ্ছে। যা নিয়ে প্রশংসা করেছে, সরকারি দলের নেতারাও। সট। বিএনপি নেতা। অ্যাস্টনসহ। বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক ভাবনা জানিয়েছেন, জামায়াত নেতা।

ক্ষমতার অন্ধ মোহে পড়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার যে নোংরা রাজনৈতিক খেলা বাংলাদেশ বছরের পর বছর দেখেছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসার এই নজির নিঃসন্দেহে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। একটি সরকার এবং একটি বিরোধীদল উভয়ের লক্ষ্য যখন হয় শুধুই রাষ্ট্রের কল্যাণ, তখন যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিই যে মোকাবিলা করা সম্ভব, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ধ্বংসস্তূপ থেকে উঠে দাঁড়ানোর এই লড়াইয়ে সরকার ও বিরোধীদলের এই নীরব বোঝাপড়া বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতির জন্য এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছে সচেতন মহল।



banner close
banner close