বৃহস্পতিবার

১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২৯ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনায় জামায়াত

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ২১:২৭

শেয়ার

বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনায় জামায়াত
ছবি: সংগৃহীত

দেশে ব্যাপক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ এবং বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ উদ্বেগ ও নিন্দা জানান। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সম্প্রতি দেশে চরম বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। গত ৯ আগস্ট থেকে দেশব্যাপী ব্যাপক লোডশেডিং শুরু হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ৯ আগস্ট ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট, ১০ আগস্ট ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট, ১১ আগস্ট ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং ১২ আগস্ট ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়েছে। ফলে গত কয়েক দিনে গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি রয়েছে।

তিনি বলেন, এর ভুক্তভোগী হয়েছে সাধারণ মানুষ ও শিল্প খাত। গত ১২ আগস্ট ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ ছিল ২০৩ কোটি ঘনফুট। সরকারের অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, অদূরদর্শিতা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দুর্নীতি ও দলীয়করণের কারণে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট চরমে উঠেছে।

জামায়াতের এ নেতা বলেন, জ্বালানি সংকট বেড়ে যাওয়ায় ক্রমান্বয়ে জনরোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে দেশের ৮০টি পল্লীবিদ্যুৎ সমিতিতে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য পুলিশ সদরদপ্তরে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। এটি সরকারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার চিত্র তুলে ধরে।

তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, নীলফামারীতে ৮০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৫ থেকে ৫৫ মেগাওয়াট এবং কুষ্টিয়ায় ১৫৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৮৫ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় একই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্তের অভাবে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে রান্নাসহ নিত্যদিনের কাজ ব্যাহত হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও বিঘ্ন ঘটছে। এতে নাগরিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

সংকট মোকাবিলায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো, শিল্পে গ্যাস চুরি বন্ধ, লিকেজ ও সিস্টেম লস কমানো, এনার্জি কনভার্শনের প্রয়োজনীয় নীতি ও যন্ত্রপাতি আমদানি সহজ করা এবং তেল পাচার রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে অপরিশোধিত তেল আমদানির ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের দক্ষতা উন্নয়নের আহ্বান জানান।

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভ্যন্তরীণ গ্যাস অনুসন্ধানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, স্থলভাগের রিজার্ভার ম্যানেজমেন্টে নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার, নতুন এক্সপ্লোরেশন কূপ ও ডেভেলপমেন্ট কূপ খননে সক্ষম বিদেশি অংশীদার আনা জরুরি।



banner close
banner close