মঙ্গলবার

১১ আগস্ট, ২০২৬ ২৭ শ্রাবণ, ১৪৩৩

এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা আতাউল্লাহ শাহ আসলেই কি জড়িত উগ্রপন্থার সাথে?

মাহবুবুর রহমান জিলানী গাজীপুর

প্রকাশিত: ১১ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:২৩

শেয়ার

এনসিপির বহিষ্কৃত নেতা আতাউল্লাহ শাহ আসলেই কি জড়িত উগ্রপন্থার সাথে?
ছবি সংগৃহীত

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মিনি কক্সবাজারখ্যাত এলাকার বালুর মাঠ। রবিবার (৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এখান থেকেই মুফতি আতাউল্লাহ শাহসহ ছয় যুবককে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। পুলিশের দাবি, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, চরমপন্থী কোনো সংগঠনের কার্যক্রম ও প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন ওই ব্যক্তিরা। আটকের পর রিমান্ড শেষে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই প্রথম আলোসহ বেশ কয়েকটি মূলধারার গণমাধ্যম একটি নির্দিষ্ট শিরোনামে খবর প্রচার করে। তাদের প্রতিবেদনে বলা হয়, উগ্রবাদী সংগঠনে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তারের পর এনসিপি নেতাকে দল থেকে স্থায়ী বহিষ্কার। তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো, সংবাদগুলোতে নির্দিষ্ট কোনো উগ্রপন্থী সংগঠনের নাম বা কী ধরনের অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন, তার কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। বরং কেবল উগ্রপন্থী তকমা ব্যবহার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ এনে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আতাউল্লাহ শাহকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে জাতীয় নাগরিক পার্টি।

উগ্রপন্থী আতাউল্লাহ শাহকে নিয়ে এলাকাবাসীর ভিন্ন মন্তব্য

এসব ঘটনার মধ্যেই বিষয়টি নিয়ে গাজীপুরের সেই পুলিশ লাইন জামে মসজিদ এলাকায় অনুসন্ধান চালায় বাংলা এডিশন। কথা হয় দীর্ঘ প্রায় তিন বছর ধরে আতাউল্লাহ শাহের ইমামতিতে নামাজ আদায় করা সাধারণ মুসল্লিদের সঙ্গে। তাদের জোরালো দাবি, আতাউল্লাহ শাহের কথাবার্তা বা আচরণে কখনোই উগ্রবাদের কোনো ছাপ দেখা যায়নি।

স্থানীয়রা আরও বলছে, তাকে কীভাবে এখানে ফাঁসানো হয়েছে, তা তাদের কাছে পরিষ্কার নয়।

ছেলের গ্রেপ্তারে হতবাক বাবা

ছেলের এমন অপ্রত্যাশিত গ্রেপ্তারে হতবাক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা ও আতাউল্লাহ শাহের বাবা মাওলানা কাজী আব্দুল বারেক।

মাওলানা আব্দুল বারেকের মতে, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজের পর ওই এলাকায় ব্যায়াম করতে গিয়েছিলেন তার ছেলে।

অভিযোগের ভিত্তিতেই বহিষ্কার: এনসিপি

এ বিষয়ে গাজীপুর মহানগর এনসিপির সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল মুহিম বাংলা এডিশনকে বলেন, অভিযোগ ওঠার পরিপ্রেক্ষিতেই কেন্দ্রীয় শৃঙ্খলা কমিটি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পুরো বিষয়টি বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটির তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

মামলাটি সিটিটিসিতে

অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাজু আহমেদ বাংলা এডিশনকে জানান, মামলাটি বর্তমানে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম বা সিটিটিসি ইউনিটের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে সিটিটিসির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

একদিকে পুলিশের সন্ত্রাসবিরোধী মামলা ও দলের তড়িঘড়ি বহিষ্কারাদেশ, অন্যদিকে পরিবার ও স্থানীয়দের ষড়যন্ত্রের শক্ত দাবি। সব মিলিয়ে মুফতি আতাউল্লাহ শাহের গ্রেপ্তারের পেছনের আসল রহস্য কী, তা নিশ্চিত হতে এখন প্রয়োজন একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।



banner close
banner close