রবিবার

৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

বড় বন্ধু হলে দেশের বড় কিলারকে জায়গা দিয়েছেন: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ২২:১৫

শেয়ার

বড় বন্ধু হলে দেশের বড় কিলারকে জায়গা দিয়েছেন: শফিকুর রহমান
ছবি সংগৃহীত

বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, পাশের দেশ দাবি করে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাহলে বড় বন্ধু হলে বাংলাদেশের বড় কিলারকে তারা বুকে জায়গা দিয়েছেন কেন। শুধু জায়গা দেওয়া হয়নি, কূটনৈতিক শিষ্টাচার ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক সম্পর্ককে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা তার নিন্দা জানাই।

রবিবার (৯ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ইস্কাটনে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে জুলাই গণঅভ্যুত্থান- ন্যায়বিচার, মেধার মূল্যায়ন ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শীর্ষক ৩৬ জুলাই উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে যা বললেন

জামায়াত আমির বলেন, কাজ করবেন শত্রুর, গালভরা বলবেন আমি বন্ধু, বাংলাদেশের মানুষ এত বোকা না।

তিনি বলেন, একটা সমাজ থেকে অপরাধীরা ভয়ঙ্কর পরিণতি থেকে বাঁচার জন্য পালায়। আজকে পালিয়ে যাওয়ারা আওয়ামী লীগ উঁকি-ঝুঁকি দিচ্ছে, মাঝে মাঝেই গল্প শোনায়—এই বুঝি এসে গেল। যে মানুষ প্রতিদিন বলে, আমি আত্মহত্যা করব, সে জীবনেও আত্মহত্যা করে না। আর যে বীর যুদ্ধের ময়দানে লড়ে যায়, সে বলে না যে আমি একজন বীর যোদ্ধা। বরং জাতি বলে যে, সে বীরযোদ্ধা। এত সাহস, তাহলে গেলেন কেন।

তিনি বলেন, তার হাসিনার ভাব এমন যে, আমি মক্কা যেতে চেয়েছিলাম, নিয়ে গেছে মস্কোয়। এখন তিনি বলেন, কই আমিতো গোপালগঞ্জ যেতে চেয়েছিলাম, এখানে কেন নিয়ে এসেছে। অথচ এখন সব কিছু বের হয়ে আসছে, তিন দিন পাশের দেশে একাধিক ফোন গেছে। তাদের কাছে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। তাহলে কি গোপালগঞ্জ যেতে ভারতের কাছে ফোন দিয়েছিলেন নাকি। জাতির সঙ্গে এই তামাশা তারা আর দেখতেও চায় না, শুনতেও চায় না।

ফ্যাসিবাদ নিয়ে সতর্কবার্তা

চব্বিশের জুলাই আন্দোলন প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এদেশের ফ্যাসিবাদীদের বিদায় দেওয়া হয়েছে, ফ্যাসিবাদে আক্রান্তরা বিদায় নিয়েছেন। আমরা নতুন কোনো ফ্যাসিবাদ দেখতে চাই না। তবে ফ্যাসিবাদ একটা ভাইরাস। এটা কোনো ব্যক্তি নয়, ব্যক্তির গায়ে বসে। এই ভাইরাস যাকেই পাবে, তাকে ফ্যাসিবাদী বানিয়ে ছাড়বে।

তিনি বলেন, যে সমস্ত কাজ-অপকর্ম করার কারণে ওই সরকারকে ফ্যাসিবাদী বলছি, আজকেও যদি একই কাজ করেন, নিঃসন্দেহে তারাও ফ্যাসিবাদ। যে কাজ অন্যের সন্তান করলে সন্ত্রাসী বলব, সেই কাজ আমার সন্তান করলে তাকেও বলতে হবে সন্ত্রাসী।

মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের দাবি

জামায়াত আমির বলেন, জুলাই আন্দোলনের উদ্দেশ্য ছিল সব ভেদাভেদ ও বৈষম্য দূর করে ঐক্যবদ্ধ একটি জাতি গঠন করা। জাতিসংঘের হিসেবে এতে ১৪ শতাধিক মারা যান। এই আন্দোলনে তরুণ ছাত্রদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ, শ্রমিক ও আলেম-ওলামারা অংশ নিয়েছিলেন। মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে ৬ থেকে ৭ শ জন ছিলেন সাধারণ শ্রমিক।

তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশে আসার আগে ও পরে বহুবার বলেছেন, আমরা একটি মেধাতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেই ওয়াদার বাস্তবায়ন কোথায়। কোথাও দেখতে পাচ্ছি না। বরং সৎ, মেধাবী, কমিটেড দেশপ্রেমিক—যারা নিরেটভাবে জাতিকে সেবা দিতে চায়—তাদেরকে সেই স্বৈরাচারী আমলের মতো বিভিন্ন জায়গায় নাজেহাল করা হচ্ছে। এখানে-সেখানে পোস্টিং দেওয়া হচ্ছে। এই প্রতিশোধ কার বিরুদ্ধে। তারা জাতিকে উপযুক্ত সেবা দিতে না পারলে আপনাদের প্রতিশোধ হবে জাতির বিরুদ্ধে।

তিনি বলেন, আমরা সংসদে ব্যক্তিগতভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি, তার কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। আজকের সমাজ দেখে আফসোস হয়, কোনো শিক্ষাই বুঝি হলো না। এখন যারা সরকারি দলে, বিরোধীদলে আছি সবাই তো মজলুম ছিলাম। তাহলে মজলুমরা এখন আবার জালিম হতে যাচ্ছে কেন। মজলুম যখন জালিম হয়, তখন আগের জালিমের চেয়ে তার পরিণতি আরও ভয়ানক হয়।

ক্ষমতার দম্ভে কেউ যেন দিশাহারা না হয়ে যায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। যেমন যারা বিদায় নিয়েছে, তাদের সরকারি বা বিরোধীদল কেউ আজকে সংসদে নেই। তাদের অপকর্মের কারণেই নেই।

তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশা তৈরি করেছে। তাই শহীদদের মর্যাদা রক্ষায় ন্যায়বিচার ও মেধাভিত্তিক রাষ্ট্র গঠন জরুরি।

অনুষ্ঠানে সম্মাননা

সভাপতির বক্তব্যে এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম বলেন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের জুলাইয়ের সাহসিকতা অনুকরণীয় এবং এনডিএফ জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে ন্যায়ভিত্তিক, মেধানির্ভর ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট চিকিৎসক, শিক্ষার্থী, শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্য, গবেষক, গণমাধ্যমকর্মী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

চিকিৎসা, নার্সিং, মেডিকেল টেকনোলজি, স্বাস্থ্য সাংবাদিকতা, রক্তসেবা, মানবিক সহায়তা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বাস্থ্যসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য ১১টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা দেওয়া হয়।



banner close
banner close