রবিবার

৯ আগস্ট, ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

১০ ছাত্রদল নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৯ আগস্ট, ২০২৬ ১২:৩৪

শেয়ার

১০ ছাত্রদল নেতাকে বেধড়ক পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠাল নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ
ছবি সংগৃহীত

একটি ফোনালাপের অডিও রেকর্ড প্রকাশ ও তা নিয়ে বিরোধের জেরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ঘোনা এলাকায় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পীসহ ১০ নেতাকর্মী হামলার শিকার হয়েছেন। এ ঘটনায় আহতদের সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলায় জড়িত সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে রয়েছেন ঘোনা গ্রামের বকুল হায়দারের ছেলে জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি মনজুরুল আলম বাপ্পী, তার বড় ভাই রাজিব হোসেন, একই গ্রামের আব্দুর রকিব, বকুল হায়দার, জাহিদ হাসান, ছাত্রদল নেতা আব্দুস সালাম, তহিদুল হোসেন ও মাহামুদুল হাসানসহ আরও কয়েকজন।

আহত ছাত্রদল নেতা মনজুরুল আলম বাপ্পীর অভিযোগ, শনিবার রাতে ঘোনা এলাকার ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হাসানের একটি ফোনালাপের রেকর্ড তাদের হাতে আসে। ওই অডিওতে বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা ও ছাত্রদলকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

বিষয়টি জানতে ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হোসেন নাজমুল হাসানের কাছে গেলে তাকে আটকে রাখা হয় বলে জানান বাপ্পী। পরে জাহিদকে আটকে রাখার খবর পেয়ে তিনি কয়েকজন নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা বাঁশের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাপ্পীর ভাষ্য, হামলায় তিনি নিজেসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অডিও রেকর্ড নিয়ে বিরোধের জেরে জাহিদ হোসেনকে আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের ১০ থেকে ১৫ জন নেতাকর্মী সেখানে যান। এ সময় ঘোনা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. নাজমুল হাসান ও তার বাবা স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা লাল্টু মেম্বারের নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটে বলে তারা জানান।

ঘটনার পর রাতেই সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। হামলার কারণ, জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এবং ঘটনার বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



banner close
banner close