ফ্যাসিস্ট হাসিনার পক্ষে সাফাই গাওয়ার অভিযোগ রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে উঠেছে। রুমিনের আওয়ামী প্রেম নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।
হাসিনাকে নিয়ে বিপাকে পড়বে সরকার না পারবে ফাঁসি দিতে না পারবে জেলে রাখতে বলেছেন রুমিন ফারহানা। ওনি ফিরবেন তাকে ফিরতেই হবে। ঠিক দুবছর পর বুধবার (৫ আগস্ট) ভারত থেকে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার প্রকাশ্যে আসার ঘোষণা আর ডিসেম্বরে ফেরার হুংকারে যখন রাজনীতিতে টানটান উত্তেজনা ঠিক তখনই রঙ্গমঞ্চে আবির্ভূত হলেন এক অচেনা রুমিন ফারহানা। সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে এক টকশোতে সাবেক বিএনপি নেত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য শোনালেন বিস্ফোরক বয়ান। জোর গলায় ঘোষণা দিলেন শেখ হাসিনা ফিরবেন তাকে ফিরতেই হবে। নিজের জন্য না হোক আওয়ামী লীগের কোটি কোটি নেতাকর্মীর জন্য হলেও ফিরতে হবে তাকে।
রুমিন শোনালেন পঁচাত্তরে শেখ মুজিবের পরিবার হারানো আর ১৯৮১ থেকে হাসিনার টানা ৪৫ বছর দল চালানোর আবেগী উপাখ্যান। কিন্তু এই দরদমাখা নাটকের আড়ালে কোন সত্য ধামাচাপা দিলেন তিনি। পঁচাত্তরে শেখ মুজিব যেমন গণতন্ত্রের কবর গড়ে বাকশাল কায়েম করেছিলেন তেমনই তার কন্যা শেখ হাসিনাও বিগত ১৫ বছর চালিয়েছেন ফ্যাসিবাদের নির্মম স্টিম রোলার। জুলাই-আগস্টে হাজারো ছাত্র-জনতা হত্যা আয়নাঘর আর গুম-খুনের অপরাধে যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রুমিন ফারহানা কোন জাদুবলে তাদের বানিয়ে দিলেন কেবলই এক ত্যাগ আর সংগ্রামের দল। এ নিয়ে চলছে আলোচনা সমালোচনা।
রুমিনের নিশানায় এবার বর্তমান সরকার ও নিজের সাবেক দল বিএনপিও। তারমতে হাসিনা ফিরলে সবচেয়ে বেকায়দায় পড়বে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার তারা না পারবে ফাঁসি দিতে না পারবে জেলে নিরাপদে রাখতে। আবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের আওয়ামী লীগের মুরোদ নেই মন্তব্যের জবাবে রুমিন ফারহানা পাল্টা প্রশ্ন তুলে বলেন রবিবার (৪ আগস্ট) বিএনপি কোথায় ছিল। এসময় উল্টো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করুণ দশার তথ্য তুলে ধরে কটাক্ষ করে রুমিন বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেকে ডি ফ্যাক্টো প্রধানমন্ত্রী ভেবে সব মন্ত্রণালয়ে খবরদারি করছেন অথচ নিজের মন্ত্রণালয়ই তলিয়ে গেছে ডুবোচরে।
এছাড়াও হাসিনা বিমানবন্দরে নামলেই সোজা ফাঁসির মঞ্চে নেয়া হবে এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলামের এমন মন্তব্যে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েন রুমিন। বিএনপি-জামায়াত-এনসিপিকে কটাক্ষ করে বলেন রাজনীতিতে একটু ফাঁকা আওয়াজ না দিলে চলে নাকি নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই এত হুংকার।
হাসিনাকে সরকার ফাঁসি দিতে পারবে না রুমিনের এই দাবি কতটা যৌক্তিক এ নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সারা দেশে মোট ৬৬৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে হত্যা মামলাই রয়েছে ৪৫৩টি। কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও দেয়া হয়েছে ইতোমধ্যে। এছাড়া মানবতাবিরোধী মামলায় ট্রাইব্যুনালের স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় অপরাধ প্রমাণিত হলে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে রাষ্ট্র কেন ব্যর্থ হবে তাও বোধগম্য নয় অনেকের কাছে।
হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে কোনো আইনী বাঁধা নেই বলেই মন্তব্য করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। শাহরিয়ার কবির বাংলা এডিশনকে বলেন। অন্যদিকে একশ্রেণীর সুশীলদের মতো না বুঝেই রুমিন ফারহানা মন্তব্য করেছে এমন তথ্য তুলে ধরেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান। হাসিনুর রহমান বাংলা এডিশনকে বলেন।
শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনার একনায়কতন্ত্রের দুঃশাসনে যারা বছরের পর বছর নির্যাতিত রুমিন ফারহানার এই বক্তব্যকে তারা অ্যাখ্যা দিচ্ছে নাটকীয় আওয়ামী প্রেম ও ফ্যাসিবাদের পক্ষে সাফাই। গণহত্যাকারী একটি পক্ষকে রাজনৈতিক দল হিসেবে স্বাভাবিকরণের চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে তারা রুমিনের বিরুদ্ধে। এমনকি আওয়ামী প্রেমে মাতোয়ারা হয়ে গেছে রুমিন সমালোচকরা বলছে এমনটাও।
আরও পড়ুন:








