জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে শুরু হয়েছে গণসমাবেশ। সকাল থেকেই বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক কর্মসূচিতে যোগ দেন। সমাবেশকে ঘিরে পুরো এলাকা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগ থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা নিয়ে মিছিলসহ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের। এছাড়া ১১ দলীয় ঐক্যে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য রাখবেন। তারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের তাৎপর্য, রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনর্গঠন এবং সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কোনো ভাটা পড়েনি। অনেকেই ছাতা, রেইনকোট ও প্লাস্টিকের আচ্ছাদন ব্যবহার করে সমাবেশস্থলে অবস্থান নেন। বৃষ্টির মধ্যেই বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। সমাবেশস্থলে এখনো বিভিন্ন জেলা ও মহানগর থেকে নেতাকর্মীদের বহনকারী মিছিল এসে যোগ দিচ্ছে।
সমাবেশকে কেন্দ্র করে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট, পল্টন, জিরো পয়েন্ট, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশও দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সমাবেশস্থলের প্রবেশপথে তল্লাশি ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আয়োজকদের দাবি, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে রাষ্ট্র সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের দাবিতে এ গণসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। তারা বলেন, গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য পূরণে জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করাই এই কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।
সমাবেশ ঘিরে রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা লক্ষ্য করা গেছে। দুপুরের দিকে প্রধান অতিথিসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচি আরও গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:








