হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ আসামিকে অস্থায়ী জামিন দিয়েছেন আদালত।
রবিবার হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মান্নানের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন তারা। শুনানি শেষে আদালত তাদের অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী কুতুবউদ্দিন জুয়েল জানান, ছাত্রদলের নেতারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের অস্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেছেন।
জামিনপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আশরাফুজ্জামান রিয়াজ, জেলা ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আসিফুল ইসলাম, ছাত্রদল নেতা মোজাক্কির হোসেন ইমন, এম এইচ নশিমুল, আল সাইমন, মাহফুজ চৌধুরী, ইশতিয়াক রহমান, শেখ সাব্বির, নাজমুল হোসেন এবং রক্সি ইসলাম।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। হামলার সময় তারা সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে নিয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
এ ঘটনায় পরদিন জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলায় হামলার পাশাপাশি ৫ লাখ টাকা, ক্যামেরা, ল্যাপটপসহ প্রায় ২০ লাখ টাকার সরঞ্জাম লুট এবং প্রায় ৫০ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ আনা হয়। এজাহারে ভিডিও ফুটেজে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
হামলার ঘটনায় এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম দাবি করেন, তাদের এক কর্মী একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, জেলা এনসিপির নেতা মুবিনের হাত ভেঙে গেছে এবং তার নিজের হাতের একটি আঙুলেও আঘাত লেগেছে।
ঘটনার পর এনসিপি প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করলে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদল পাল্টা কর্মসূচি দেয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সেই আদেশ প্রত্যাহার করা হয়।
পরবর্তী সময়ে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমসহ দলের নেতারা মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে সাতগাঁও এলাকায় পুলিশের ব্যারিকেডের মুখে পড়েন। পরে আলোচনা শেষে তারা কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে মামলার এজাহার জমা দিয়ে ফিরে যান।
অন্যদিকে একই ঘটনার জেরে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রোকন সদর মডেল থানায় পৃথক একটি মামলার আবেদন করেছেন। আবেদনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, আইফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
তবে রোববার দুপুর পর্যন্ত ওই অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুর রহমান।
ছাত্রদলের আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, গত মঙ্গলবার বিকেলে শহরের কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হওয়া নেতাকর্মীদের ওপর নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, সারজিস আলম, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, মাহবুবুল বারী চৌধুরীসহ ৪০ থেকে ৫০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান।
আরও পড়ুন:








