হি ইজ নোন অ্যাজ টু বি দ্য... ব্রেইন বিহাইন্ড দ্য হোল রেভল্যুশন। অর্থাৎ, মাহফুজ আলমই পুরো বিপ্লবের পেছনের মূল কারিগর। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অনুষ্ঠানে ঠিক এভাবেই মাহফুজ আলমকে আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছিলেন তখনকার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তবে সমালোচকদের দাবি, জুলাই আন্দোলনের সেই রূপকারই আজ যেন পুরোপুরি নিশ্চুপ, নীরবতার এক গহিন অতলে বিলীন।
৫ আগস্টের পর অন্তরালে মাহফুজ আলম
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসা অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এখন অনেকটাই অন্তরালে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতেও যেন তাঁর উপস্থিতি কিংবা প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া চোখেই পড়ছে না সংশ্লিষ্টদের।
এনসিপি নেতাদের ওপর হামলায় নীরবতা
সম্প্রতি, জুলাই আন্দোলন থেকে উঠে আসা তরুণদের রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় দলের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী গুরুতর আহতও হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই ধারণা করেছিলেন, হয়তো অন্দরমহলের নীরবতা ভেঙে মাহফুজ আলম, তাদেরই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় গড়ে ওঠা ছাত্ররাজনৈতিক দল এনসিপির ওপর হামলার প্রতিবাদে সরব হবেন। কিন্তু সেই প্রত্যাশা তাঁর নীরবতার অন্তরালেই ঢাকা পড়েছে বলেই মনে করছে অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মাহফুজ আলমের অফিসিয়াল পেজেও এ বিষয়ে তেমন কোনো প্রকাশ্য স্ট্যাটাস বা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।
সমন্বয়কদের মধ্যে ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন
তাঁর এই নীরবতাকে অনেকে আবার ভিন্ন সমীকরণে মিলিয়ে দেখছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সমন্বয়কেরা বিভিন্ন স্থানে হামলার শিকার হলেও, তাঁদেরই আরেক সমন্বয়কের এমন নিস্তব্ধতা প্রশ্ন ও রহস্যের জন্ম দিচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, এতে জুলাইয়ের সমন্বয়কদের মধ্যে আগের মতো ঐক্য ও সমন্বয় রয়েছে কি না, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
এছাড়াও, নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটের প্রশ্নে বিভিন্ন সময় এনসিপির সমালোচনা করতেও দেখা গেছে মাহফুজ আলমকে। নির্বাচনের আগে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোটকে তিনি ভুল সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। সে সময় তাঁর সেই বক্তব্য নিয়েও নানা মহলে আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
জামায়াত-জোটের পর দূরত্বের ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের একাংশ বলছে, এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যাওয়ার পর থেকেই মাহফুজ আলম নিজেকে এনসিপি থেকে মানসিক ও রাজনৈতিকভাবে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। তাঁদের মতে, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের ওপর হামলার পরও তাঁর এমন নিস্তব্ধতা জুলাইয়ের নেতৃত্বের ভেতরে দূরত্ব তৈরির ইঙ্গিত হিসেবেও অনেকেই দেখছে।
মাহফুজ আলমের এই নীরবতা নিয়ে সমালোচনারও কমতি নেই। কেউ কেউ বলছে, তথ্য উপদেষ্টার পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর তিনি যেন দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেই নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন, যেমন দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে চামচিকা নিভৃত অন্ধকারে আশ্রয় নেয়। আবার অনেকে মনে করছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি সচেতনভাবেই নিজেকে প্রকাশ্য আলোচনা থেকে দূরে রেখেছেন।
সব মিলিয়ে, জুলাই এবং জুলাইয়ের চেতনাকে অটুট রাখতে হলে শুধু সেই আন্দোলনের স্মৃতি ধারণ করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন জুলাইয়ের প্রধান সমন্বয়কদের মধ্যে ঐক্য, সম্প্রীতি ও সমন্বয়ের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রতিষ্ঠা। এমনটাই বলছে বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন:








