শুক্রবার

৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৬ শ্রাবণ, ১৪৩৩

সরকার দেশ চালানোর নৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছে: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:১১

শেয়ার

সরকার দেশ চালানোর নৈতিক ক্ষমতা হারিয়েছে:  শফিকুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

দুর্নীতি বন্ধ করতে না পারায় বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার নৈতিক অধিকার হারিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, 'ধন্যবাদ জানাই একজন সিনিয়র নেতাকে। তিনি গতকাল বলেছেন, 'আমরা হতাশ। পাঁচ মাসের এই সরকারের সময়ে দুর্নীতি বন্ধ করা যায়নি, বরং বেড়েছে। তারেক রহমান ছাড়া সবাই দুর্নীতিতে লিপ্ত।' আমি বুঝলাম না! তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী, তিনি চান না, অথচ দুর্নীতি সবাই করে—এটা কীভাবে সম্ভব? আমরা দেখি, তার ইশারায় সব চলে। তাহলে তার ইশারায় এটা বন্ধ হয় না কেন?'

তিনি আরো বলেন, 'আল্লাহ ভালো জানেন, মাথা থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত সবকিছু একই কি না। আমরা তো দেখতে পাচ্ছি, একই। ব্যর্থতার দায় যখন স্বীকার করলেন, তখন এই সরকারের আর ক্ষমতায় থাকার নৈতিকতা থাকে? নৈতিক দিক থেকে সরকার দেশ পরিচালনার অধিকার হারিয়েছে। তিনি তো প্রেসের সামনে খোলাখুলিভাবে বলেছেন, এটি কোনো গোপন কথা নয়। এটাই এই সরকারের আমলের বাস্তব চিত্র।'

শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কবির আহমদ।

জামায়াত আমির বলেন, 'জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি গদিতে বসে বলছেন, সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নেয়া হলে তাকে চাঁদাবাজি বলা যাবে না। তাদেরই একজন হুইপ বলেছেন, দেশের বাইরে থেকে যে-ই আসুক, চাঁদাবাজি বন্ধ হবে না। বর্তমান সরকার বা তারেক রহমানের সরকার এটি কিছুটা কমানোর চেষ্টা করছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চাঁদাবাজিকে দ্বিতীয় দফায় জাতীয় সনদ বা স্বীকৃতি দেয়া হলো।

তিনি বলেন, 'তারা কোটি কোটি মানুষকে চাকরি দেয়ার কথা বলেছেন। চাকরি তো দিয়েই ফেলেছেন—'টেম্পোস্ট্যান্ডের চাকরি'। এই চাকরি জনগণ চায় না, বরং ঘৃণা করে।'

ফেডারেশনের ১২ দফা দাবি প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, 'এই দাবিগুলো তুলতে হচ্ছে, কারণ সমাজে অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি; বরং অধিকার নিয়ে কাড়াকাড়ি চলছে। পরিবহন শ্রমিকরা চাঁদাবাজদের হাতে নাজেহাল হচ্ছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর বিপদ নেমে আসে; তাদের মারধর করা হয় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এসব মূলত সরকারি দলের লোকেরাই করছে।'

তিনি বলেন, 'এই সরকারের ভেতরেই ভূত আছে। আর সরিষার মধ্যেই যদি ভূত থাকে, তাহলে তা তাড়ানো যাবে না। ইনশাআল্লাহ, এই বাংলাদেশ থেকে ভূত তাড়ানো হবে।'

তিনি বলেন, 'রক্ত তো সবাই মিলে দিয়েছি। এটি কোনো গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। জুলাইয়ের এই অর্জন ১৮ কোটি মানুষের অর্জন। একে কোনো নির্দিষ্ট দলের অর্জন হিসেবে দাবি করা যাবে না। ১০ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে যে মা রাস্তায় নেমেছিলেন, তার দাবি ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।'

তিনি বলেন, 'আমরা আগেও মজলুম ছিলাম, এখনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা রাখি। মানুষের অধিকারের জন্য লড়াই করে যাব।'

শ্রমিকদের শপথ নেয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, 'আপনারা শপথ নিয়ে যান—নিজে কোনো অন্যায় করবেন না, কাউকে অন্যায় করতেও দেবেন না।'

সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এমপি এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান।



banner close
banner close