বৃহস্পতিবার

৩০ জুলাই, ২০২৬ ১৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধায় এনসিপি নেতারা, ধস্তাধস্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৩০

আপডেট: ২৯ জুলাই, ২০২৬ ১৭:৫৬

শেয়ার

হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে পুলিশি বাধায় এনসিপি নেতারা, ধস্তাধস্তি
ছবি সংগৃহীত

হবিগঞ্জে পূর্বঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শীর্ষ নেতারা। এ সময় মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশের সঙ্গে এনসিপি নেতাকর্মীদের ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

বুধবার বিকেল ৪টার কিছু আগে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজ থেকে এনসিপি নেতাদের বহনকারী গাড়িবহর হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা এলাকায় পুলিশ তাদের আটকে দেয়।

গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য মাহমুদা মিতুসহ দলের শীর্ষ নেতারা ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, প্রায় ১০টি মাইক্রোবাসের বহর নিয়ে এনসিপি নেতারা হবিগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। তবে চা-কন্যা এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্য মূল সড়কে অবস্থান নিয়ে তাদের অগ্রযাত্রা আটকে দেন। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে এনসিপি নেতারা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিস্থিতির একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় জারি থাকা ১৪৪ ধারার কারণে এনসিপি নেতাদের সেখানে যেতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপি নেতারা পুলিশি বাধা প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং কর্মসূচিতে যাওয়ার ওপর জোর দেন।

এর আগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জে ‘জুলাই পদযাত্রা’ শেষে ফেরার পথে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করে এনসিপি। ওই ঘটনায় দলের কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, হামলার সময় কয়েকটি গণমাধ্যমের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতির মধ্যে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী নিরাপত্তার জন্য একটি ব্যাংকে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে মৌলভীবাজারে নিয়ে যায়, যেখানে তারা রাতযাপন করেন।

এ ঘটনার পর বুধবার এনসিপি মৌলভীবাজারে পূর্বঘোষিত দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দেয়। একই সময়ে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের পৃথক কর্মসূচির ঘোষণায় জেলায় নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শহরসহ মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।



banner close
banner close